Baluchistan

আগামী ১১ অগস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন করবে বালুচিস্তান! বিশ্বের কাছে স্বীকৃতির দাবি, চাপে পাকিস্তান

বিবৃতিতে কাশ্মীর ইস্যু, ১৯৪৮ সালে বালুচিস্তানে পাকিস্তানের সামরিক অভিযান, সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধ, ১৯৯৮ সালের চাগাই পারমাণবিক পরীক্ষা এবং ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পরবর্তী ঘটনাবলির উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে। এই সব ঘটনায় পাকিস্তানের নীতির ভূমিকা ছিল। তা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়িয়েছে।

বালুচিস্তানের স্বাধীনতা দিবস ঘোষণা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুচিস্তান
  • শেষ আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬ ১১:৪৫

এ বার কি আলাদা হতে চলেছে বালুচিস্তান। পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরই বড় ঘোষণা বালুচিস্তানের। সোমবার তারা জানিয়েছে, প্রতি বছর ১১ আগস্ট ‘বালুচিস্তানের স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। পাশাপাশি, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী বালোচদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে দিনটি উদযাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের বিদ্রোহী মির ইয়ার বালোচ নিজের সমাজমাধ‍্যমে একটি বিবৃতি পোস্ট করেছেন। ওই বিবৃতিতে ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’ আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নিজেদের একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে বালোচ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে দিনটি উদযাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বালুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মির ইয়ার বালোচ জনগণের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন, নিজেদেরকে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হিসেবে দাবি করতে হবে। ‘স্বাধীন’ বালুচিস্তানের জাতীয় পতাকা বাড়ি, পাড়া, বাজার, দোকান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য জনসমাগমস্থলে উত্তোলন করতে হবে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের কাছে এই দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ১১ অগস্টকেই বালুচিস্তানের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে প্রতি বছর পালন করা হবে।

এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিও মির ওই বিবৃতির মাধ্যমে করেছেন। বিবৃতিতে বিশ্বের কাছে বালুচিস্তানকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, পাকিস্তানে বর্তমানের যে অবস্থা, এমনটা চলতে থাকলে এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি সম্ভব নয়। পাশাপাশি ওই বিবৃতিতে এ-ও দাবি করা হয়েছে, ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’ ছ’কোটি বালোচ জনগণ নিজেদের একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বিবেচনা করে।

আচমকা কেন ১১ অগস্ট দিনটিকেই বেছে নেওয়া হল? তা নিয়েও ওই বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ১১ অগস্ট ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের সময় বালুচিস্তান প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা করে। তাদের দাবি, সে সময় এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, এমনকী ‘দ‍্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এবং ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’ -তে তা সম্প্রচারিত হয়েছিল। সেই থেকেই তারা প্রতি বছর ১১ অগস্ট দিনটিকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও পালন করবে বলে জানিয়েছেন মির ইয়ার বালোচ।

তাঁদের বক্তব্য, পাকিস্তানের নীতির প্রভাব যে শুধু এই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল এমনটা নয়। এর প্রভাব বিশ্বজুড়েও পড়েছে। পাকিস্তান থেকে উৎপত্তি হওয়া সন্ত্রাসবাদ পশ্চিমের দেশগুলিকে রক্তাক্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যেও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে লক্ষ লক্ষ বাঙালির হত্যাকাণ্ডকে সংঘটিত হয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। তাঁদের ভাষায় ‘পাকিস্তান নামের অভিশাপ’ থেকে অঞ্চলটিকে মুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়াও, বিবৃতিতে কাশ্মীর ইস্যু, ১৯৪৮ সালে বালুচিস্তানে পাকিস্তানের সামরিক অভিযান, সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধ, ১৯৯৮ সালের চাগাই পারমাণবিক পরীক্ষা এবং ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পরবর্তী ঘটনাবলির উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে। এই সব ঘটনায় পাকিস্তানের নীতির ভূমিকা ছিল। তা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়িয়েছে।


Share