Assam Flood

জল নামতেই মিলল সাময়িক স্বস্তি, কিন্তু বিপদ এখনও কাটেনি! অসমে তিন লক্ষ মানুষ বন্যাকবলিত, কমলা সতর্কতায় বাড়ল উদ্বেগ

বুধবার অসম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, নতুন করে শিবসাগর জেলায় দু’জন এবং গোলাঘাট জেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এর জেরে চলতি বছরের বন্যায় রাজ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮।

অসমে বন্যাকবলিত এলাকা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, অসম
  • শেষ আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬ ০১:২৪

অসমে নদীর জল কিছুটা নামতে শুরু করায় সাময়িক স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। তবে সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বুধবার অসম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, নতুন করে শিবসাগর জেলায় দু’জন এবং গোলাঘাট জেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এর জেরে চলতি বছরের বন্যায় রাজ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮।

অসমে বন্যা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। শিবসাগর, চরাইদেও, গোলাঘাট, জোরহাট, নগাঁও, বিশ্বনাথ এবং কামরূপ মেট্রোপলিটন এই সাত জেলার প্রায় তিন লক্ষ মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২১টি রাজস্ব সার্কেলের অন্তর্গত ৫৫১টি গ্রাম সম্পূর্ণভাবে প্লাবিত। বানের জলে ডুবে গিয়েছে প্রায় ২১ হাজার ৫২৩ হেক্টর কৃষিজমি, ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে চরাইদেও জেলায়, যেখানে প্রায় এক লক্ষ ৩৭ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত। পাশাপাশি বানের জলে ভেসে গিয়েছে এক হাজারেরও বেশি গবাদি পশু এবং হাজার হাজার পশু এখনও বন্যার প্রভাবে রয়েছে। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে গুয়াহাটির একাধিক এলাকাও। পরিস্থিতির জেরে গৃহহীন ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ বর্তমানে ৭১টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।

অসমের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২১ জুলাইয়ের পর থেকে নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় বেশ কিছু এলাকায় জল নামতে শুরু করেছে। তবে বন্যার জেরে রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ দিকে, পূর্বাঞ্চলীয় থিয়েটার পরিদর্শনের সময় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের আধিকারিকরা সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের প্রস্তুতি এবং মহড়ার অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন।

এ দিকে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস। ৩০ জুলাই থেকে ১ অগস্ট পর্যন্ত অসম, অরুণাচলপ্রদেশ ও নাগাল্যান্ডের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। বিশেষ করে তিনসুকিয়া জেলা এবং নাগাল্যান্ড সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির জন্য জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, টানা বৃষ্টির জেরে নদীগুলির জলস্তর ফের বৃদ্ধি পেতে পারে, যার ফলে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনকে সর্বাত্মক প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর।


Share