Fire Incident

ফের বাসে অগ্নিকাণ্ড, দমকল ও পুলিশের তৎপরতায় অল্পের জন্য রক্ষা পেল ৩২ জন যাত্রী

বাসে আগুন লাগার আগেই পোড়া গন্ধ টের পেয়ে চালক গাড়ি থামিয়ে দেন। দ্রুত যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ায় ৩২ জন যাত্রী রক্ষা পান।

অগ্নিদগ্ধ বাস।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়ডা
  • শেষ আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ০১:১০

নয়ডায় ফের এসি স্লিপার বাসে আগুন। তবে এ বার চালকের তৎপরতায় বড়সড় দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি এড়ানো গেল। বাসে আগুন লাগার আগেই পোড়া গন্ধ টের পেয়ে চালক গাড়ি থামিয়ে দেন। দ্রুত যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ায় ৩২ জন যাত্রী রক্ষা পান।

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লা থেকে বাসটি ৩২ জন যাত্রীকে নিয়ে উত্তরপ্রদেশের মুজফ্‌ফরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। লালকেল্লা থেকে বেরোনোর প্রায় আধ ঘণ্টা পর নয়ডার সেক্টর ৪৮-এর নলেজ পার্কের কাছে পৌঁছোয় সেটি। আচমকাই বাসের কেবিনে পোড়া গন্ধ পান চালক। গন্ধটি বাসের সামনের অংশ থেকে আসছে বুঝতে পেরে তিনি আর কোনও ঝুঁকি নেননি। সঙ্গে সঙ্গে রাস্তার পাশে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রীদের দ্রুত নেমে যেতে বলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, যাত্রীরা বাস থেকে নামার মাত্র ৫-৭ মিনিটের মধ্যেই সেটিতে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন গ্রাস করে নেয় পুরো বাস। উৎসবের মরসুম উপলক্ষে কয়েক জন ব্যবসায়ী বাসে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে যাচ্ছিলেন। আগুনে সেই সমস্ত সামগ্রীও পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ঘটনার পর আতঙ্কে শিউরে উঠেছেন যাত্রীরা। এক যাত্রীর কথায়, ‘‘আর পাঁচ মিনিট দেরি হলে কী হত, ভাবতেই ভয় লাগছে। অনেক মানুষের মৃত্যু হতে পারত। চালকের তৎপরতা এবং সময়মতো সতর্ক হওয়ার কারণেই বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে।’’ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় দমকল ও পুলিশ। দ্রুত যাত্রীদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশগামী একটি এসি স্লিপার বাসে আগুন লেগে ন’জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই বাসে ছিলেন ৩৫ জন যাত্রী। অভিযোগ, বাস থেকে পোড়া গন্ধ বেরোনোর কথা চালককে বার বার জানিয়েছিলেন যাত্রীরা। কিন্তু তাঁদের সতর্কবার্তায় গুরুত্ব দেননি চালক। শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ন’জন। সেই ঘটনার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফের একই ধরনের ঘটনা ঘটল। তবে এ বার চালকের সময়োচিত সিদ্ধান্তের কারণে বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হল।


Share