Job Scam

নিট বিতর্কের মাঝেই ফাঁস হাই-টেক পরীক্ষা জালিয়াতি! প্রক্সি সার্ভারে ‘হ্যাক’ করে অনলাইন পরীক্ষা, গ্রেফতার ৭

গ্রেটার নয়ডার ‘বালাজি ডিজিটাল জোন’ নামে একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে হানা দিয়ে মূল চক্রী-সহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ ০৭:৩০

নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কে যখন পুরো দেশ উত্তাল, ঠিক সেই সময় সামনে এল পরীক্ষা দুর্নীতির আরও ভয়ঙ্কর ও প্রযুক্তিনির্ভর এক চিত্র। প্রশ্নপত্র ফাঁস নয়, বরং খোদ পরীক্ষা কেন্দ্রের কম্পিউটার ব্যবস্থা ‘হ্যাক’ করে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী, এসএসএফ কনস্টেবল ও আসাম রাইফেলসের অনলাইন নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে বিশাল চক্রের পর্দাফাঁস করল উত্তরপ্রদেশ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।

গ্রেটার নয়ডার ‘বালাজি ডিজিটাল জোন’ নামে একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে হানা দিয়ে মূল চক্রী-সহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা নগদ, একাধিক ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং বহু পরীক্ষার্থীর নথি।

তদন্তকারীদের দাবি, চক্রটি সরাসরি স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (এসএসসি) মূল সার্ভার হ্যাক করেনি। বরং পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা ‘এডুকুইটি’-র সিস্টেমকে পাশ কাটিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের কম্পিউটারে একটি সমান্তরাল প্রক্সি সার্ভার বসানো হয়েছিল। সেই সার্ভারের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীর কম্পিউটার স্ক্রিন বাইরে বসে থাকা ‘সলভার’দের কাছে পৌঁছে যেত। এরপর স্ক্রিন-শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করে বাইরে থেকেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে দেওয়া হত। তদন্তে জানা গিয়েছে, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থী পিছু প্রায় চার লক্ষ টাকার চুক্তি করা হয়েছিল।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ২২ মে গ্রেটার নয়ডার নলেজ পার্ক এলাকার ওই পরীক্ষাকেন্দ্রে অভিযান চালায় এসটিএফ। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছে এই চক্রের মূল পান্ডা প্রদীপ চৌহান। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই সে এই জালিয়াতি চক্র চালাচ্ছিল এবং পরীক্ষাকেন্দ্রটি তৈরির পিছনেও তার ভূমিকা ছিল। প্রযুক্তিগত দিক ও প্রক্সি সার্ভার পরিচালনার দায়িত্বে ছিল অরুণ কুমার নামে এক প্রযুক্তিবিদ। ধৃত অন্যরা হল সন্দীপ ভাটি, নিশান্ত রাঘব, অমিত রানা, শাকির মালিক ও বিবেক কুমার।

তদন্তকারীদের আশঙ্কা, এই চক্র শুধু একটি পরীক্ষাকেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ নয়। গত কয়েক বছরে হওয়া অন্যান্য কেন্দ্রীয় নিয়োগ পরীক্ষাতেও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে জালিয়াতি হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের কথায়, এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে বিস্তৃত হতে পারে।

নিট ২০২৬ প্রশ্নফাঁস বিতর্কে যখন ছাত্র-অভিভাবকদের ক্ষোভ তুঙ্গে, তখন এসএসসি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ পরীক্ষায় এমন হাই-টেক জালিয়াতির ঘটনা দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, কোনো বড় প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বা সংগঠিত দালালচক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত আরও বিস্তৃত করছে এসটিএফ।


Share