Delhi Protest

দিল্লির ছাত্র আন্দোলনে পাকিস্তানি যোগের অভিযোগ! ৪০০ সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে উস্কানি, 'অপারেশন সিঁদুর'-এর সঙ্গেও মিল খুঁজে পেল পুলিশ

এ বার সেই আশঙ্কারই প্রাথমিক ভিত্তি মিলেছে বলে দাবি দিল্লি পুলিশের। তদন্তে উঠে এসেছে, পাকিস্তান থেকে ভারতের ছাত্র বিক্ষোভকে ঘিরে উস্কানি ছড়ানোর একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত।

দিল্লিতে অশান্তি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬ ০১:৩৩

আশঙ্কার কথাই যেন সত্যি হল। দেশের পড়ুয়াদের আন্দোলনকে সামনে রেখে বিদেশ থেকে অশান্তি ও হিংসা উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে এমন আশঙ্কা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের ছিল। এ বার সেই আশঙ্কারই প্রাথমিক ভিত্তি মিলেছে বলে দাবি দিল্লি পুলিশের। তদন্তে উঠে এসেছে, পাকিস্তান থেকে ভারতের ছাত্র বিক্ষোভকে ঘিরে উসকানি ছড়ানোর একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত।

দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা ছাত্র বিক্ষোভকে ঘিরে সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনায় পাকিস্তান-ঘনিষ্ঠ সমাজমাধ্যমে অ্যাকাউন্টগুলির ভূমিকার অভিযোগ তুলেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রায় ৪০০টি পাকিস্তানি সমাজমাধ্যমে হ্যান্ডেল ধারাবাহিকভাবে পড়ুয়া ও জেন-জি প্রজন্মকে উস্কানিমূলক কনটেন্টের মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে প্রায় ১০০টি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তরুণদের একটি বড় অংশ ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় থাকায়, প্ল্যাটফর্মটির অ্যালগরিদমকে কাজে লাগিয়ে তাদের ফিডে উস্কানিমূলক পোস্ট পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এতেই শেষ নয়। যন্তর মন্তরের হিংসার ঘটনার সঙ্গে 'অপারেশন সিঁদুর'-এরও যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, দিল্লিতে হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে চিহ্নিত যে পাকিস্তান-ভিত্তিক সমাজমাধ্যমে অ্যাকাউন্টগুলি নজরে এসেছে, সেগুলিই 'অপারেশন সিঁদুর' চলাকালীনও সক্রিয় ছিল। ওই হ্যান্ডেলগুলি থেকে ধারাবাহিকভাবে ভারতবিরোধী পোস্ট, ভুয়ো তথ্য এবং বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, এই প্রায় ৪০০টি অ্যাকাউন্টই পরিকল্পিতভাবে হিংসা উস্কে দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

দিল্লিতে আন্দোলনের আড়ালে ভাঙচুর ও পুলিশের উপর হামলার একাধিক ঘটনার পর কড়া অবস্থান নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে যাঁরা হিংসায় উস্কানি দিয়েছেন বা সরাসরি হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না। এ দিকে আন্দোলন যে মূল দাবিকে সামনে রেখে শুরু হয়েছিল, সেই ইস্যু কি ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যাচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাশাপাশি, আন্দোলনের নেতৃত্ব বা উদ্দেশ্য অন্য কোনও গোষ্ঠীর প্রভাবে বদলে যেতে পারে কি না, সেই আশঙ্কাও বিভিন্ন মহলে আলোচনায় উঠে আসছে।


Share