Alahabad High Court

মতপ্রকাশের অধিকারে হস্তক্ষেপের অভিযোগ, নয়ডার জেলাশাসকের সিদ্ধান্ত ‘উপহাসের যোগ্য’! আকৃতিকে পাঁচ লক্ষ ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

সোমবার সেই রায়ের প্রতিলিপি প্রকাশ্যে এসেছে। আর সেখানেই আকৃতিকে আটক করার ক্ষেত্রে নয়ডার জেলাশাসকের ভূমিকা নিয়ে আদালত একাধিক প্রশ্ন তুলেছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, এলাহাবাদ
  • শেষ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:০৭

এলাহাবাদ হাই কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন উত্তরপ্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগর (নয়ডা) জেলার জেলাশাসক মেধা রূপম। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কন্যা মেধার নির্দেশেই চলতি বছরে নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভের সময় বঙ্গতনয়া আকৃতি চৌধুরীকে জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ)-এ আটক করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক আকৃতি ওই ঘটনার পর টানা পাঁচ মাস বিচারবিভাগীয় হেফাজতে ছিলেন। গত ২ সেপ্টেম্বর এলাহাবাদ হাই কোর্ট আকৃতির বিরুদ্ধে জারি হওয়া এনএসএ-র নির্দেশ বাতিল করে দেয়। সোমবার সেই রায়ের প্রতিলিপি প্রকাশ্যে এসেছে। আর সেখানেই আকৃতিকে আটক করার ক্ষেত্রে নয়ডার জেলাশাসকের ভূমিকা নিয়ে আদালত একাধিক প্রশ্ন তুলেছে।

বিচারপতি অতুল শ্রীধরণ এবং বিচারপতি অচল সচদেবের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠে এসেছে। আদালতের রায়ে জেলাশাসকের ভূমিকা নিয়ে করা পর্যবেক্ষণ ঘিরেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

নির্দেশনামায় আদালত জানিয়েছে, মেধা ‘দৃষ্টান্ত স্থাপন’-এর উদ্দেশ্যে আকৃতির বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ধারা প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তাঁর এই সিদ্ধান্ত ‘উপহাসের যোগ্য’। বিচারপতিদের মতে, মতপ্রকাশের অধিকারে হস্তক্ষেপ করে মেধা তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব লঙ্ঘন করেছেন। আদালত আকৃতিকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ওই ক্ষতিপূরণের অর্থ মেধা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আধিকারিকদের বেতন থেকে দেওয়ার কথাও আদালত জানিয়েছে। পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের ভূমিকা নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছে বিচারপতি অতুল শ্রীধরন এবং বিচারপতি অচল সচদেবের বেঞ্চ। আদালতের বক্তব্য, পুলিশ ও আমলাদের মনে রাখতে হবে, তাঁদের দায়বদ্ধতা সংবিধানের প্রতি, রাজনৈতিক প্রশাসনের প্রতি নয়। এমন কোনও আচরণ তাঁদের করা উচিত নয়, যাতে তাঁদের ‘ব্রিটিশ আমলের দমন-পীড়নের বাহক’ বলে মনে হয়।

একই সঙ্গে দুই বিচারপতির বেঞ্চ কড়া ভাষায় উত্তরপ্রদেশের আমলাদের সতর্ক করেছে। জর্জ অরওয়েলের বিখ্যাত উপন্যাস ‘১৯৮৪’-এর প্রসঙ্গ টেনে আদালতের মন্তব্য, আমলারা নিজেদের কাজের ধরন না বদলালে অদূর ভবিষ্যতে উত্তরপ্রদেশ ‘সম্পূর্ণ জীবনগ্রাসী রাষ্ট্রে’ পরিণত হতে পারে। উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত ‘১৯৮৪’ উপন্যাসে জর্জ অরওয়েল এমন এক স্বৈরতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার ছবি তুলে ধরেছিলেন, যেখানে সর্বগ্রাসী সরকার মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, চিন্তাভাবনা এমনকি ইতিহাসকেও নিয়ন্ত্রণ করে।


Share