Air India

পাইলটের শরীরে গাঁজা মেলার পর কড়া পদক্ষেপ এয়ার ইন্ডিয়ার, ৩০০-র বেশি পাইলটের পরীক্ষা, নজরে আরও দু'জন

অভিযোগ ওঠে, সেই সময় বিমানের পাইলট নিজের আসনে ছিলেন না। এমনকি, তিনি গাঁজা সেবন করে বিমান চালাচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ। পরবর্তী মাদক পরীক্ষায় তাঁর শরীরে গাঁজার উপস্থিতির প্রমাণ মেলে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০২৬ ০৩:১৭

ফুকেত-দিল্লি বিমানে দুর্ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া সমস্ত পাইলটের মাদক পরীক্ষা করার নির্দেশ দেয়। সেই পরীক্ষার প্রাথমিক রিপোর্টে আরও দু’জন পাইলটের ফল ‘নেগেটিভ’ হয়নি বলে খবর। তবে চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি। তা পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ করবে বিমান সংস্থা।

ঘটনার সূত্রপাত থাইল্যান্ডের ফুকেত থেকে দিল্লিগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানকে ঘিরে। মাঝ আকাশে আচমকাই প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায় বিমানটি। তীব্র ঝাঁকুনিতে বেশ কয়েক জন যাত্রী আহত হন। অভিযোগ ওঠে, সেই সময় বিমানের পাইলট নিজের আসনে ছিলেন না। এমনকি, তিনি গাঁজা সেবন করে বিমান চালাচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ। পরবর্তী মাদক পরীক্ষায় তাঁর শরীরে গাঁজার উপস্থিতির প্রমাণ মেলে। এরপরই এয়ার ইন্ডিয়া সমস্ত পাইলটের মাদক পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

সূত্রের খবর, ফুকেত-দিল্লি বিমানের ঘটনার পর পাইলটদের মাদক পরীক্ষা নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়া নতুন করে এসওপি তৈরি করেছে। সেই নিয়ম অনুযায়ী, সংস্থার সমস্ত পাইলটের মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৩০০-র বেশি পাইলট এই পরীক্ষা করিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে। যদিও এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা করা হয়নি। সাধারণত এই ধরনের পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট পেতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে। সূত্রের খবর, প্রাথমিক পরীক্ষায় আটকে যাওয়া ওই দুই পাইলটকে আপাতত বিমান চালানোর রস্টার থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তাঁদের নতুন কোনও উড়ানের দায়িত্ব দেওয়া হবে না। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই কর্তৃপক্ষ পরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেবে।

ফুকেত-দিল্লি বিমানটি নিরাপদেই দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করলেও পরে পাইলটকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। জানা যায়, ওড়িশার আকাশসীমার উপর দিয়ে দিল্লির দিকে যাওয়ার সময় বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল। প্রায় চার সেকেন্ড বিমানের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রগুলির উপর কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না এবং সেগুলির কার্যকারিতাও বন্ধ হয়ে যায়। বিমানে তখন ১৩৭ জন যাত্রী এবং আট জন বিমানকর্মী ছিলেন। ফলে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

পাইলট ইন-কমান্ড কোনও রকমে পরিস্থিতি সামাল দেন। দিল্লিতে অবতরণের পর অভিযোগ ওঠে, তিনি বিমানবন্দরে ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না। এমনকি প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহের সময়ও তাঁকে শারীরিক ভাবে সাহায্য করতে হয়। পরে পরীক্ষায় তাঁর শরীরে মাদকের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এ বার নজরে ওই বিমান সংস্থার আরও দুই পাইলট।


Share