Hit And Run

দীপাবলীতে স্ত্রীর জন‍্য শাড়ি কিনে আনার পথে দুর্ঘটনা, স্বামীকে পিষে দিল থার গাড়ি, পলাতক মহিলা চালক

কৈলাশ চৌহানের বক্তব্য, গাড়ির ভেতরে দু’জন মহিলা ও একজন পুরুষ ছিলেন। এক মহিলাই চালকের আসনে বসেছিলেন। এরপরই মহিন্দ্রা থারে থাকা তিন আরোহী দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়িটি ফেলে রেখে ঘটনাস্থলে পৌঁছোনো অন্য একটি গাড়িতে চড়ে চম্পট দেয়।

এই গাড়িতেই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কানপুর
  • শেষ আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ০৭:১৫

গাড়ি চালানো শিখতে গিয়ে দুর্ঘটনা। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা স্কুটারে ধাক্কা মারল মহিন্দ্রা থার গাড়ি। ঘটনাস্থলেই স্কুটার আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে ঘটনাটি ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মাহিন্দ্রা থার গাড়িটির চালকের আসনে এক মহিলা ছিলেন। তিনি গাড়ি চালানো শিখছিলেন। সেই সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুটারে ধাক্কা মারে। এমনকী, বেশ কয়েক মিটার টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তার পরে বেশ কয়েকটি বাড়ির দেওয়ালে ধাক্কা মারে।

মৃতের নাম সন্তোষ সিংহ চৌহান (৫৫)। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ নিজের বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরেই দুর্ঘটনটি ঘটে। মৃতের ছেলে রাহুল চৌহান জানান, তাঁর বাবা দীপাবলী উপলক্ষে মায়ের জন‍্য একটি শাড়ি কিনতে বেরিয়েছিলেন। তাড়াতাড়ি বাড়িতে ফিরে আসবেন বলেও জানিয়েছিলেন। দোকান থেকে শাড়ি কিনে ফেরার পথেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। অবশেষে সন্তোষবাবুর মৃত্যু সংবাদ এসে পৌঁছোয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ঘাতক মহিন্দ্রা থার গাড়িটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলছিল। কিছু স্থানীয়ের দাবি, স্কুটারে ধাক্কা মারার আগে গাড়িটি রাস্তায় আরও কয়েক জনকে ধাক্কা মারে। স্কুটারটিকে পিষে দেওয়ার পর গাড়িটি সেটিকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিটার টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। এরপর চালক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারালে পেশায় অধ্যাপক কৈলাশ চৌহানের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে পাশের একটি বাগানে ঢুকে পড়ে। সেখানে ঢুকে ওই বাড়ির সীমানা প্রাচীরে ধাক্কা মারে। ওই বাড়িটি বেঙ্গালুরুতে কর্মরত জিএসটি সুপারিনটেনডেন্ট অনিতা মহাদেবনের বাড়ি বলে স্থানীয়েরা দাবি করেছেন।

অধ্যাপক কৈলাশ চৌহান বিকট শব্দ শুনে বাইরে আসেন। তাঁর বক্তব্য, গাড়ির ভেতরে দু’জন মহিলা ও একজন পুরুষ ছিলেন। এক মহিলাই চালকের আসনে বসেছিলেন। এরপরই মহিন্দ্রা থারে থাকা তিন আরোহী দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়িটি ফেলে রেখে ঘটনাস্থলে পৌঁছোনো অন্য একটি গাড়িতে চড়ে চম্পট দেয়।

খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। গাড়ির নম্বর প্লেট দেখে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘাতক থার গাড়িটি বাহাদুর নগরের বাসিন্দা কৃষ্ণ কুমারের নামে এক ব্যক্তির নামে নথিভুক্ত রয়েছে। সহকারী পুলিশ কমিশনার দিলীপকুমার সিংহ জানিয়েছেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয়েছে। তিনি নিজেই এই ঘটনার তদন্ত করছেন।

পুলিশ আধিকারিক আরও জানান, অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে এবং যে গাড়িতে তারা পালিয়েছে তার রুট চিহ্নিত করতে এলাকার সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে। এবং গাড়ির আসল মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে চালকের আসনে থাকা মহিলার সন্ধান চালানো হচ্ছে।


Share