Nepal Flash Flood

তিব্বতে হড়পা বানের তাণ্ডব, নিখোঁজ ৫৫৮! অবশেষে বিদেশিদের দেশভিত্তিক হিসাব প্রকাশ চীনের

এর মধ্যে সরকারি ভাবে কেবল উদ্ধারকাজ এবং প্রশাসনের তৎপরতার পরিসংখ্যানই প্রকাশ করা হচ্ছিল। অবশেষে রবিবার সকালে বেজিং জানাল, তিব্বতে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে কোন দেশের কত জন রয়েছেন।

নেপালে হড়পা বান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নেপাল
  • শেষ আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬ ০৩:৩২

তিব্বতে হড়পা বানে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করল চীন সরকার। বুধবার সকালের ভয়াবহ হড়পা বানে শুধু নেপাল নয়, সীমান্তের ওপারে তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে তিব্বতের পরিস্থিতি নিয়ে চিনা কর্তৃপক্ষ তথ্য গোপন করছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি চীনা সমাজমাধ্যম থেকেও বিপর্যয়ের ছবি ও ভিডিয়ো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এর মধ্যে সরকারি ভাবে কেবল উদ্ধারকাজ এবং প্রশাসনের তৎপরতার পরিসংখ্যানই প্রকাশ করা হচ্ছিল। অবশেষে রবিবার সকালে বেজিং জানাল, তিব্বতে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে কোন দেশের কত জন রয়েছেন।

চীন সরকার এখনও পর্যন্ত তিব্বতে হড়পা বান বিপর্যয়ে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখনও নিখোঁজ ৫৫৮ জন। তাঁদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। চীনা সরকারি সংবাদমাধ্যম চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (সিজিটিএন) রবিবার জানিয়েছে, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১০৪ জন নেপালের নাগরিক। এ ছাড়াও, নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন ৪৯ জন ভারতীয়, ১৮ জন আমেরিকান এবং ১৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক। উত্তর ইউরোপের দেশ লাতভিয়ার ৩৩ জন নাগরিকও ওই সময় তিব্বতে ছিলেন। হড়পা বান বিপর্যয়ের পর থেকে তাঁদেরও কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের তালিকায় রয়েছেন মালয়েশিয়ার তিন জন, কাজ়াখস্তানের এক জন, দক্ষিণ আফ্রিকার চার জন, আয়ারল্যান্ডের দু’জন, ফ্রান্সের দু’জন, জার্মানির তিন জন, রাশিয়ার তিন জন, নেদারল্যান্ডসের দু’জন, ইউক্রেনের এক জন, পর্তুগালের এক জন, কানাডার ছ’জন, স্পেনের এক জন, হাঙ্গেরির এক জন, অস্ট্রেলিয়ার ছ’জন এবং নিউ জ়িল্যান্ডের দু’জন। চীনা কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলির দূতাবাস ও উপদূতাবাসকে নিখোঁজ নাগরিকদের বিষয়ে অবহিত করেছে। পাশাপাশি, তাঁদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্যও দূতাবাসগুলিকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তিব্বত সীমান্তের গিরং কাউন্টিতে, যেখানে ভয়াবহ হড়পা বান আছড়ে পড়েছিল, সেখানে বর্তমানে আর কোনও বিদেশি নাগরিক আটকে নেই।

গত বুধবার সকালে হিমবাহ ভেঙে বিপুল জলরাশি নেমে আসায় ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ বান দেখা দেয়। কাদামাটি, পাথর ও বরফগলা জলের প্রবল স্রোত মুহূর্তের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। গ্রামের পর গ্রাম, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় সবই। নেপালে রবিবার সকাল পর্যন্ত ৭৩৪ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ দু'হাজার ৪৯৮ জন। নিখোঁজদের মধ্যে বহু ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন। কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে যাওয়া বহু পুণ্যার্থী ও পর্যটকেরও এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি। একই বিপর্যয়ের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে সীমান্তের ওপারে তিব্বতেও। কিন্তু সেখানে ধ্বংসযজ্ঞের ছবি বা ভিডিয়ো এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, তিব্বতের বন্যায় ধ্বংসযজ্ঞের ছবি ও ভিডিয়ো, যেখানে দুর্গতদের ত্রাণের জন্য হাহাকার এবং সাহায্যের আর্তি ফুটে উঠেছিল, সেগুলি চীনা সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে যাচাই করার ক্ষেত্রেও কড়া বিধিনিষেধ রয়েছে। চীন সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া তিব্বতে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার সুযোগ নেই, আর সেই অনুমতিও মিলছে না বলে অভিযোগ। ফলে তিব্বতের প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে কার্যত চীনের সরকারি সংবাদসংস্থার প্রকাশিত তথ্যের উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। তারাই রবিবার সকালে সাংবাদিক বৈঠক করে তিব্বতে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের দেশভিত্তিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।


Share