Gyanesh Kumar Row

প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ তুলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার চেষ্টা! নির্বাচন কমিশনের পাশে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের নিশানা ৪২ জন প্রাক্তন বিচারপতির

৪২ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির খোলা চিঠিতে ‘ভোট চুরি’ অভিযোগের প্রমাণ দাবি, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ভূমিকার পক্ষে সওয়াল এবং এসআইআর-এর আইনি ভিত্তির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

মুখ‍্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:১৮

প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ তুলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনটা হলে সাধারণ মানুষের গণতন্ত্রের ওপর থেকে আস্থা হারাবে। ‘ভোট চুরি’ অভিযোগ নিয়ে বিরোধীদের নিশানা করেছেন দেশের ৪২ জন পি বিচারপতি। নির্বাচন কমিশনের পাশে দাঁড়িয়ে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ইন্ডি জোট ধারাবাহিক ভাবে প্রতিবাদ করছে। এরই মধ্যে ৪২ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন। বুধবার প্রকাশিত ওই খোলা চিঠিতে তাঁরা দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপ ও আক্রমণ নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রমাণ এবং সাংবিধানিক ও বিচারাধীন প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর জোর তাঁরা দিয়েছেন।

ওই খোলা চিঠিতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। প্রাক্তন বিচারপতিদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাঁরা এই নির্বাচন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাই এমন সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ সামনে রাখা প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষ করে বিরোধীদের তরফে ব্যবহৃত ‘ভোট চুরি’ অভিযোগ নিয়েও ৪২ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা মনে করেন, নির্বাচনে অনিয়মের কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কাছে জানানো যায়। আবার বিষয়টি আদালতের সামনে প্রমাণ-সহ উপস্থাপন করা যায়। রাজনৈতিক মঞ্চে অভিযোগ তোলার পরিবর্তে সাংবিধানিক ব্যবস্থার মধ্যেই তার নিষ্পত্তির পথ খোঁজা প্রয়োজন বলে তাঁরা পরামর্শ দিয়েছেন।

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-কে সমর্থন

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়েও চিঠিতে আলোচনা করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্বের একটি অংশ। জন প্রতিনিধিত্ব আইন আইন অনুযায়ী কমিশন হাতে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তাঁরা জন প্রতিনিধিত্ব আইনের ২১(৩) নম্বর ধারা উল্লেখ করে ভোটার তালিকা সংশোধনের আইনি ভিত্তির কথাও তুলে ধরেছেন।

তবে এসআইআর নিয়ে বিরোধী দলগুলির অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনার নামে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রক্রিয়াটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করাই সংশোধন এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছে।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি

এই বিতর্কের মধ্যেই বিরোধী দলগুলি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ইন্ডি জোটের নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা সংবিধান ও নির্বাচন আইন মেনেই কাজ করছে। ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিশন একাধিক বার নথি ও নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ জানানোর কথা বলেছে।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে বৃহত্তর বিতর্ক

৪২ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির চিঠির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল— তাঁরা শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, দেশের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও আইনদ্বারা প্রতিষ্ঠিত সংস্থার ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের বৃহত্তর পরিসরের কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর আস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কোনও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার তথ্যপ্রমাণ এবং নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই হওয়াই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক পথ।

এই খোলা চিঠি অবশ্য সুপ্রিম কোর্টের কোনও রায় বা নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়। এটি ৪২ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির যৌথ অবস্থান। ফলে এসআইআর, ভোটার তালিকা এবং ‘ভোট চুরি’ সংক্রান্ত বিতর্কের চূড়ান্ত মূল্যায়ন একমাত্র প্রমাণ, সরকারি নথি এবং সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক ও বিচার প্রক্রিয়ার ওপরেই নির্ভর করবে বলে ৪২ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মনে করেছে।


Share