Ukraine War

কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধের আগুনে আটকে ১৩ ভারতীয় নাবিক! ইউক্রেনের বন্দরে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আতঙ্কে উদ্ধারের অপেক্ষা

তাঁদের মধ্যে ১৩ জনই ভারতীয়। নিরাপদে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার উপায় না থাকায় কার্যত চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ইউক্রেন
  • শেষ আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৬ ১১:৫১

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে কৃষ্ণসাগর এলাকায় ফের চরম অনিশ্চয়তার মুখে ভারতীয় নাবিকরা। ইউক্রেনের চর্নোমস্ক বন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কার মধ্যে ‘এমভি আমির–১’ নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজে আটকে রয়েছেন মোট ১৫ জন নাবিক। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনই ভারতীয়। নিরাপদে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার উপায় না থাকায় কার্যত চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের।

‘ফরওয়ার্ড সি-মেন’স ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ সমাজমাধ্যমে একটি জরুরি বার্তা প্রকাশ করে আটকে থাকা নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনের দাবি, জাহাজের খুব কাছাকাছি এলাকায় বারবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হচ্ছে। ফলে যে কোনও মুহূর্তে জাহাজটি সরাসরি হামলার মুখে পড়তে পারে এই আশঙ্কায় চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নাবিকরা। সংগঠনের শেয়ার করা একটি ভিডিয়োতেও জাহাজের আশপাশে ঘন কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গিয়েছে। তাদের দাবি, ওই দৃশ্য থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকার ভয়াবহ নিরাপত্তা পরিস্থিতির স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।

সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে কেন্দ্রীয় সরকার, জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাগ স্টেটের কাছে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছে সংগঠনটি। বিজ্ঞপ্তিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, “সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ভারতীয় নাবিকদের এভাবে ‘সহজ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ফেলে রাখা যায় না।”

কৃষ্ণসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহেই ওই অঞ্চলে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর ভারত সরকার ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানায়। এরই মধ্যে ইউক্রেনের চর্নোমস্ক বন্দরে নতুন করে এই ঘটনার জেরে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আটকে পড়া নাবিকদের পরিবারের নজর এখন ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট শিপিং সংস্থার পদক্ষেপের দিকে। তারা দ্রুত নিরাপদ উদ্ধারের বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ ও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।


Share