Middle East Conflict

রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০% শুল্ক! ট্রাম্পের হাতে নতুন ক্ষমতা, চাপে ভারত-চিন

ফলে কংগ্রেসে পাশ হওয়া বিলটি এ বার আইনে পরিণত হল। নতুন আইনের জেরে ভারত এবং চিন-সহ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলির উপর চাপ বাড়তে পারে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৫৪

ভারত-সহ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এমন একাধিক দেশের পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ শীর্ষক বিলে ট্রাম্প স্বাক্ষর করেছেন। ফলে কংগ্রেসে পাশ হওয়া বিলটি এ বার আইনে পরিণত হল। নতুন আইনের জেরে ভারত এবং চিন-সহ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলির উপর চাপ বাড়তে পারে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধ করাই এই আইনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলিকেও আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাশিয়ার তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনে—এমন নির্দিষ্ট দেশের পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে। নতুন আইনে রাশিয়ার উপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ব্যবস্থার কথাও রয়েছে। ফলে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলির জন্যও পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। দিন দুয়েক আগেই বিলটি আমেরিকার কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টিটিভসে ২৬২-১৫৯ ভোটে পাশ হয়। এর আগে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই বিলটি অনুমোদিত হয়েছিল। বাকি ছিল শুধু প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর। সেই আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন হওয়ায় এ বার আইনটি কার্যকর করার পথে আর কোনও বাধা রইল না।

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও রসদের জোগান যাতে রাশিয়া সহজে না পায়, সেই লক্ষ্যেই মস্কোর উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে চাইছে আমেরিকা। প্রস্তাবিত আইনে রাশিয়া থেকে আমেরিকায় আমদানি করা পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সংস্থান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তাঁর সরকারের শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তাব রয়েছে।

এই আইন কার্যকর হলে ভারত ছাড়াও চিন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, আজ়ারবাইজান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, হাঙ্গেরি এবং স্লোভাকিয়ার মতো দেশগুলি পরোক্ষ ভাবে প্রভাবিত হতে পারে। এই দেশগুলির সঙ্গে রাশিয়ার উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে রুশ তেল কেনাবেচার ক্ষেত্রে কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রস্তাবিত বিলে আমেরিকার কংগ্রেসের এক ডেমোক্র্যাট সদস্য সংশোধনী এনে ওই দেশগুলির নাম নির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করে শুল্ক বা অন্যান্য বিধিনিষেধের আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সংশোধনী গৃহীত হয়নি।

তবে ট্রাম্প বিলে সই করলেই ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়ে যাচ্ছে—বিষয়টি এমন নয়। এই আইনের মাধ্যমে আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারত-সহ সংশ্লিষ্ট যে কোনও দেশের পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ট্রাম্প শুল্ক আরোপ করতে পারবেন। তবে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন কি না, কিংবা করলেও কত শতাংশ শুল্ক চাপাবেন, তা সম্পূর্ণ তাঁর সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। এই ক্ষেত্রে হাঙ্গেরিকে এখনও পর্যন্ত ব্যতিক্রমী সুবিধা দিয়ে এসেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইউরোপের এই দেশটি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করলেও আনুষঙ্গিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভাবে নমনীয় অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন।

বর্তমানে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্কের হার প্রায় ১২ শতাংশ। ট্রাম্প যদি নতুন আইনে দেওয়া ক্ষমতা প্রয়োগ করে তা বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ করেন, সে ক্ষেত্রে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয় রফতানির উপরও। সামগ্রিক ভাবে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে অর্থনীতিতে। একই সঙ্গে ভারত-আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে পারে। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এ দিকে, আমেরিকার কংগ্রেসে বিলটি পাশ হওয়ার বিষয়টি ভারত সরকার নজরে রেখেছে বলে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে। তবে আমেরিকার চাপের মুখে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করার কোনও সিদ্ধান্ত নয়াদিল্লি নেয়নি বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। মস্কোর সঙ্গে ভারতের জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে অবস্থানেও আপাতত কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই।


Share