Russian Oil

রুশ তেল কিনলেই ১০০% শুল্ক! আমেরিকার নতুন বিল ঘিরে চাপে ভারত-চিন, বাড়ছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন

মঙ্গলবার আমেরিকার সেনেটে সেই সংশোধিত বিলটি পাশ হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আমেরিকা সফরের সময়ই এই বিল অনুমোদন পেল। ওয়াশিংটনের দাবি, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে মস্কোর সামরিক আগ্রাসন রুখতে কৌশলগত চাপ তৈরি করা।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, রাশিয়া
  • শেষ আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৬ ০২:০৯

রাশিয়ার তেলের ক্রেতাদের উপর চাপ বাড়াতে আমেরিকার সেনেটে পাশ হল নতুন বিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে তেল কিনলে সংশ্লিষ্ট দেশের পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। আমেরিকার এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা ভারত, চিন-সহ একাধিক দেশ অর্থনৈতিক চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত বছর এই বিলের প্রস্তাব দিয়েছিলেন সদ্য প্রয়াত আমেরিকার সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে। যদিও সেই সময় বিলটি কার্যকর হয়নি। তবে গ্রাহামের মৃত্যুর পর ফের বিলটি নিয়ে সক্রিয় হয় হোয়াইট হাউস। সংশোধনের মাধ্যমে শুল্কের হার কমিয়ে ১০০ শতাংশ করা হয়। মঙ্গলবার আমেরিকার সেনেটে সেই সংশোধিত বিলটি পাশ হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আমেরিকা সফরের সময়ই এই বিল অনুমোদন পেল। ওয়াশিংটনের দাবি, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে মস্কোর সামরিক আগ্রাসন রুখতে কৌশলগত চাপ তৈরি করা।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিল কার্যকর হলে ভারতের উপর বড়সড় অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ, রুশ তেল আমদানির ক্ষেত্রে চিনের পরেই ভারতের অবস্থান। ফলে মস্কোর কাছ থেকে তেল কেনা নিয়ে প্রস্তাবিত এই বিল নয়াদিল্লির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার আমেরিকার সেনেটে বিলটি পেশ হলে তার পক্ষে ৮৬টি ভোট পড়ে, বিপক্ষে ভোট দেন ১২ জন সদস্য। বিলটির মূল লক্ষ্য হল ভারত, চিন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজানের মতো দেশগুলির উপর চাপ বাড়ানো, যাতে তারা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে।

আমেরিকার এই নিষেধাজ্ঞা বিলটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে রুশ জ্বালানির উপর ভারতের নির্ভরতা আরও বেড়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল ব্যাহত হয়েছে। এই পথ দিয়েই ভারতের আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ দেশে পৌঁছোত। ফলে রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে শুল্কের চাপ তৈরি হলেও, ইউরোপের বহু দেশ এখনও রাশিয়ার জ্বালানি গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। তবে তাদের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিশেষ ছাড় রাখা হচ্ছে।


Share