America

রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০% শুল্ক! আমেরিকার সেনেটে বিল পাস, চাপে ভারত-চিন-জাপান

সেই তালিকায় ভারতও রয়েছে। বিলটি কার্যকর হলে ভারতের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পথও খুলে যেতে পারে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ ১২:২৬

রাশিয়ার উপর নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপের একটি বিল শুক্রবার আমেরিকার সেনেটে চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে পাস হয়েছে। এই বিল আইনে পরিণত হলে ওয়াশিংটন রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনা দেশগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা পাবে। সেই তালিকায় ভারতও রয়েছে। বিলটি কার্যকর হলে ভারতের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পথও খুলে যেতে পারে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য।

এ বার বিলটি আমেরিকার কংগ্রেসের অপর কক্ষ, হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভে পেশ করা হবে। সেখানে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে। দুই কক্ষেই বিলটি পাস হলে শেষ ধাপ হবে প্রেসিডেন্টের অনুমোদন। ট্রাম্প বিলে স্বাক্ষর করলে তা আইনে পরিণত হবে। এর পর রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি আমদানি করে এমন দেশগুলির বিরুদ্ধে নতুন আইনের আওতায় পদক্ষেপ করতে পারবে আমেরিকা।

আমেরিকার প্রস্তাবিত এই বিলে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল বা অন্য কোনও জ্বালানি কেনা দেশগুলি পরোক্ষে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ আগ্রাসনকে সমর্থন করছে। তাই ওই দেশগুলির পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের জন্য আমেরিকার ক্ষমতা পেতে পারে। ফলে ভারত, চিন ও জাপানের মতো রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি করা দেশগুলি এই বিলের আওতায় সমস্যায় পড়তে পারে। ইউক্রেন-সহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যেই বিলটিকে স্বাগত জানিয়েছে।

মার্কিন সেনেটে বিলটি পেশ হওয়ার পর থেকেই তা নিয়ে আলোচনা চলছিল। প্রায় এক সপ্তাহ আগে ভোটাভুটির মাধ্যমে বিলটি নিয়ে সেনেটের পদ্ধতিগত বাধা পেরিয়ে যায়। সেই সময় বিলের পক্ষে ৮৬টি এবং বিপক্ষে ১২টি ভোট পড়েছিল। শুক্রবার বিলটির উপর চূড়ান্ত ভোটাভুটি হয়। ৮৬-১১ ভোটে সেনেটে বিলটি পাস হয়েছে। আমেরিকার অভিযোগ, রাশিয়ার তেল বিক্রি থেকে পাওয়া বিপুল রাজস্ব প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করছেন। সেই অর্থের জোগান বন্ধ করাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। সেনেটে বিল পাস হওয়ার পর ইউক্রেনের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছে ওয়াশিংটন। এক আমেরিকার সেনেটর বলেন, ‘‘আমরা ইউক্রেনের মানুষকে বলতে চাই, আপনারা একা নন। আমরা পুতিনকে বলতে চাই, আপনি কোনও দিন ইউক্রেন দখল করতে পারবেন না।’’

এই মুহূর্তে চিন রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি তেল কেনে। ভারত রয়েছে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে। এ ছাড়াও, রুশ তেলের অন্যতম ক্রেতা স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, আজারবাইজান এবং জাপানের মতো দেশ। আমেরিকায় প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে এই দেশগুলি রুশ তেল কেনা বন্ধ না করলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলে তাদের উপর ইচ্ছেমতো শুল্ক চাপাতে পারবেন। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। কিছু দিন আগে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল, আমেরিকার ওই বিলের উপর নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানির চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এ বিষয়ে নীতি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছিল কেন্দ্র।


Share