Plane Clash

আটলান্টিকের অতল গর্ভে ৭৪ বছরের রহস্যের অবসান! ১৯৫২ সালে নিখোঁজ প্যান অ্যামেরিকার বিমান মিলল দু'হাজার ফুট গভীরে, চমকে দিল আধুনিক প্রযুক্তি

কীভাবে এত দশক পরে মিলল এই ঐতিহাসিক সন্ধান? কী প্রযুক্তির সাহায্যে খুঁজে পাওয়া গেল হারিয়ে যাওয়া বিমানটিকে?

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ ০৭:০৬

ইতিহাস যেন ফিরে এল ৭৪ বছর পর। ১৯৫২ সালের ১১ এপ্রিল আটলান্টিক মহাসাগরে ভেঙে পড়েছিল আমেরিকার বিমান সংস্থা প্যান আমেরিকান এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী বিমান। ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় যাত্রী ও বিমানকর্মী-সহ মোট ৫২ জনের মৃত্যু হয়। তৎকালীন সময়ে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও সমুদ্রগর্ভে হারিয়ে যাওয়া বিমানটির কোনও সন্ধান মেলেনি। অবশেষে দীর্ঘ ৭৪ বছর পর গভীর সমুদ্রের তলায় উদ্ধার হয়েছে সেই বিমানের ধ্বংসাবশেষ। কীভাবে এত দশক পরে মিলল এই ঐতিহাসিক সন্ধান? কী প্রযুক্তির সাহায্যে খুঁজে পাওয়া গেল হারিয়ে যাওয়া বিমানটিকে?

১৯৫২ সালের ১১ এপ্রিল দুপুর ১২টা ১১ মিনিটে পুয়ের্তো রিকোর স্যান জুয়ানের ইসলা গ্রান্দে বিমানবন্দর থেকে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে উড়ে যায় প্যান আমেরিকান এয়ারওয়েজের ডিসি-৪ ফ্লাইট ৫২৬এ। কিন্তু উড়ানের মাত্র ন'মিনিটের মধ্যেই মাঝআকাশে নিয়ন্ত্রণ হারায় বিমানটি। এরপর সেটি আটলান্টিক মহাসাগরের জলে আছড়ে পড়ে, ঘটে যায় এক বিমান দুর্ঘটনা।

বিমানটিতে মোট ৬৪ জন যাত্রী এবং পাইলট-সহ পাঁচ জন বিমানকর্মী ছিলেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর ১২ জন যাত্রী-সহ মোট ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। তবে বাকি সবাই আটলান্টিক মহাসাগরের অতল গর্ভে চিরতরে নিখোঁজ হয়ে যান। দীর্ঘ ৭৪ বছর পর ডিসকভারি চ্যানেলের জনপ্রিয় সিরিজ ‘এক্সপেডিশন আননোন’-এর অনুসন্ধানকারী দল সমুদ্রের তলদেশে সেই অভিশপ্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পেয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই একাধিকবার প্যান আমেরিকান এয়ারওয়েজের ওই বিমানের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তবে এতদিন কোনও সাফল্য মেলেনি। অবশেষে সমুদ্রের প্রায় ২,০০০ ফুট গভীরে ড্রোনের সাহায্যে মিলেছে বিমানের ধ্বংসাবশেষ। ডিসকভারি চ্যানেলের দাবি, পুয়ের্তো রিকোর উত্তর উপকূলের অদূরে আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে বহু দশক ধরে নিখোঁজ থাকা প্যান অ্যামের সেই বিমান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই আবিষ্কার যেন ইতিহাসের এক বিস্ময়কর পুনরাবিষ্কার।


Share