Middle East Conflict

জর্ডনে আমেরিকার সেনা নিহতের পর ইরানে ভয়াবহ পাল্টা হামলা আমেরিকার, ট্রাম্পের নির্দেশে ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানে উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া

ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। তবে ঠিক কোন কোন জায়গায় আঘাত হানা হয়েছে বা হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

জর্ডনের আমেরিকার সেনাঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ ইরানের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ ০২:২৭

জর্ডনে আমেরিকার সেনাঘাঁটিতে ইরানের হামলায় দুই আমেরিকার সেনার মৃত্যু হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও এক জওয়ান। এই হামলার জবাব দিতে রবিবার ভোর থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে আমেরিকা। সেন্টকম জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হচ্ছে। ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। তবে ঠিক কোন কোন জায়গায় আঘাত হানা হয়েছে বা হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সেন্টকম জানিয়েছে, রবিবার ভোর সাড়ে তিনটে থেকে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে আমেরিকা। সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের বাধা দেওয়ার ক্ষমতা ভেঙে দিতেই এই হামলা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করা এবং গত রাতে জর্ডনে মার্কিন সেনাদের উপর হামলার জন্য দায়ী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসকে লক্ষ্যবস্তু করাও এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য। অন্য দিকে, ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এলাকায় আমেরিকা হামলা চালিয়েছে। তবে ওই হামলায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। পরিকাঠামোরও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। হরমুজ প্রণালীতে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে ঘিরে আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত ফের চরমে উঠেছে। এই হামলায় ভারতীয় নাবিকেরাও আক্রান্ত হয়েছেন। এর জবাবে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। জর্ডনের পাশাপাশি বাহরিন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরবেও হামলার খবর মিলেছে। শনিবার জর্ডনে এমনই এক হামলায় দুই আমেরিকার সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আরও এক সেনা নিখোঁজ রয়েছেন। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আমেরিকা-ইরান সংঘাতে এখনও পর্যন্ত মোট ১৬ জন আমেরিকার সেনার মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৪২০ জন। জর্ডনের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে আমেরিকার প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘এই বলিদান আমাদের সঙ্কল্পকেই আরও দৃঢ় করে তুলছে।’’

২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। সম্প্রতি তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। এরপর তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেইকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তিনি জনসমক্ষে আসেননি। আড়াল থেকেই তিনি আমেরিকার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, গত মাসে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আর কোনও মূল্য বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপই সেই চুক্তিকে কার্যত অর্থহীন করে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে মোজতবার এই বক্তব্যের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।


Share