Middle East Conflict

নবম দিনের আমেরিকার বোমাবর্ষণে কাঁপছে ইরান, নিহত আরও এক আমেরিকান সেনা! ট্রাম্পের নির্দেশে জোরদার সামরিক অভিযান, পাল্টা হামলায় আইআরজিসি

রবিবার সেন্টকম জানায়, ইরাকে বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে আরও এক আমেরিকার সেনার মৃত্যু হয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করল আমেরিকা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬ ১২:৪৫

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করল আমেরিকা। টানা নবম দিনের মতো দেশটিতে বোমাবর্ষণ চালাচ্ছে আমেরিকার বাহিনী। এ দিকে, পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক সংঘর্ষে নিহত আমেরিকার সেনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনে। এর আগে জর্ডনে অবস্থিত একটি আমেরিকার সেনাঘাঁটিতে ইরানের হামলায় দু'জন সেনার মৃত্যু হয়েছিল। রবিবার সেন্টকম জানায়, ইরাকে বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে আরও এক আমেরিকার সেনার মৃত্যু হয়েছে। এরপরই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের তীব্রতা আরও বাড়ানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই এই ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে।

সোমবার সকালে এক বিবৃতিতে পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন আমেরিকার সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে। তবে ঠিক কোন কোন এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি আমেরিকা। অভিযানের বিস্তারিত বিবরণও গোপন রাখা হয়েছে। অন্য দিকে, ইরানের সংবাদসংস্থা তাসনিমের দাবি, সোমবার ভোরে দেশের একাধিক শহরে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাশাহর এবং বন্দর ইমাম খোমেইনি-সহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

সাম্প্রতিক সংঘর্ষে আরও এক আমেরিকার সেনার মৃত্যু হয়েছে ইরাকের উত্তরাঞ্চলে। ওই সেনা সেখানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন। সেন্টকম জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া একটি ড্রোন ইরাকের আকাশে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছিল। ড্রোনটিতে থাকা বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার সময় শনিবার আচমকাই প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এক আমেরিকার সেনা আধিকারিকের। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান-আমেরিকা সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে এ নিয়ে মোট ১৭ জন আমেরিকাত সেনার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৪২০ জনেরও বেশি আমেরিকার সেনা।

আমেরিকার সামরিক অভিযানের পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে ইরানও। দেশটির ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সিরিয়ায় আমেরিকার সেনার বিশেষ অভিযানের সদর দফতরে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি কুয়েতে অবস্থিত আমেরিকার দুটি সামরিক ঘাঁটিতেও হামলার খবর মিলেছে। চলমান সংঘাতের আবহে সৌদি আরব, কাতার, বাহরিন, জর্ডন, কুয়েত, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিও ইরানের নজরে রয়েছে। কারণ, ইরানের অভিযোগ অনুযায়ী, এই দেশগুলির সামরিক ঘাঁটিগুলিই ইরানে অভিযান চালানোর জন্য ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন।

গত মাসে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যেখানে ৬০ দিনের সংঘর্ষবিরতির বিষয়ে সম্মতি হয়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এরপর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ কার্যত শেষ হলেও কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা থাকবে। এরই মধ্যে রবিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই দাবি করেন, ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা সেই সমঝোতা স্মারকের কোনও মূল্য নেই। তাঁর এই মন্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।


Share