Middle East Conflict

সংঘর্ষবিরতি ভাঙার অভিযোগে মুখোমুখি আমেরিকা-ইরান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া

ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনীর দাবি, রাত দু'টো থেকে তিনটের মধ্যে কুয়েত ও বাহরিনে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে। তবে ওই দুই দেশে হামলায় ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ০২:০০

আমেরিকার সেনাবাহিনীকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে শত্রুপক্ষের যে কোনও আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে ‘বিধ্বংসী’ পাল্টা হামলার মাধ্যমে, আর কোনও রকম রেয়াত করা হবে না। শনিবার দক্ষিণ ইরানে আমেরিকার হামলার পর রবিবার ভোরে পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত আমেরিকার ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালায় তেহরান। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনীর দাবি, রাত দু'টো থেকে তিনটের মধ্যে কুয়েত ও বাহরিনে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে। তবে ওই দুই দেশে হামলায় ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এর আগে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক অভিযান প্রয়োজন হলে শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া হবে। তাঁর দাবি, ইরান যদি সংঘাতের পথেই এগোয়, তবে তার অস্তিত্বই বিপন্ন হতে পারে।

এর জবাবে রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমেরিকা সংঘর্ষবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ভবিষ্যতে যে কোনও আগ্রাসনের আরও কঠোর ও বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট যে কোনও জাহাজের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মাত্র দু’সপ্তাহ আগে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফা শর্ত-সম্বলিত একটি সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেখানে ৬০ দিনের সংঘর্ষবিরতির কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু বর্তমানে উভয় দেশই পরস্পরের বিরুদ্ধে সেই চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে। ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন মানেই সমঝোতা প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপকেই ভেঙে দেওয়া, যা চলতে থাকলে পুরো চুক্তিই বাতিল হয়ে যেতে পারে।

নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী যৌথভাবে কুয়েত ও বাহরিনে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কুয়েতও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর থেকেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। ওই হামলার জন্য আমেরিকা ইরানকে দায়ী করলেও তেহরান অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দায় চাপায় আমেরিকার বাহিনীর ওপর। এরই মধ্যে শনিবার হরমুজ প্রণালীতে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারও হামলার শিকার হয়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমশ আরও জটিল হয়ে উঠছে।


Share