Middle East Conflict

ইরানের ড্রোন ও রেডার সাইটে আমেরিকার পরপর হামলা, হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

পাশাপাশি ইরানের উপকূলবর্তী একাধিক নজরদারি রেডার সাইটেও গোলাবর্ষণ করেছে আমেরিকার বাহিনী। এই ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে ফের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।

হরমুজ় প্রণালীতে আমেরিকা এবং ইরানের হামলা-পাল্টা হামলা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ০১:১২

ফের উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিম এশিয়ায়। হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের ড্রোন শনাক্ত করার পর সেগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। পাশাপাশি ইরানের উপকূলবর্তী একাধিক নজরদারি রেডার সাইটেও গোলাবর্ষণ করেছে আমেরিকার বাহিনী। এই ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে ফের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়। এর জবাবে পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত আমেরিকার ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যদিও সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে এখনও কোনও সমঝোতা হয়নি।

পশ্চিম এশিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর দিকে এগিয়ে আসা ইরানের চারটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, সম্ভাব্য পাল্টা হামলা ঠেকাতে ইরানের উপকূল এবং হরমুজ়ের একটি দ্বীপে অবস্থিত একাধিক রেডার সাইটেও হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি ইরান।

সংঘাত শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে তেহরান। অভিযোগ, ওই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেলবাহী জাহাজ এই প্রণালী দিয়েই যাতায়াত করে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আমেরিকাও ইরানমুখী ও ইরান থেকে আসা জাহাজগুলির ওপর নজরদারি ও বাধা জোরদার করেছে।

এদিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলা আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে এবং শীঘ্রই একটি চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও তেমন কোনও নিশ্চয়তা মেলেনি। ফলে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা যে পুরোপুরি কাটেনি, তা স্পষ্ট।


Share