Middle East Conflict

আবার অশান্ত হরমুজ প্রণালী, ইরানের ঘাঁটিতে আমেরিকার হামলা, সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তেহরানেরের

ওয়াশিংটনের অভিযোগ, আমেরিকার যুদ্ধবিমান টহল দেওয়ার সময় ইরানের তরফে একাধিক সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ছোড়া হয়। পাশাপাশি, ইরানের ড্রোন ও বোটগুলি সমুদ্রে মাইন পেতে রেখেছে বলেও দাবি করেছে মার্কিন প্রশাসন।

হরমুজ প্রণালী
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ০৪:০২

আমেরিকা ও ইরানের চলমান সংঘাতের আবহে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল হরমুজ প্রণালী। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয়বার হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি ইরানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে আমেরিকান সেনা। এই ঘটনার পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরান। ইরানের অভিযোগ, এই হামলা দুই দেশের মধ্যে কার্যকর হওয়া সংঘর্ষবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

পেন্টাগনের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ছোট নৌযানের মাধ্যমে আমেরিকার বাহিনীর উপর হামলার চেষ্টা করেছিল। সেই হামলার জবাব দিতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আমেরিকা। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, আমেরিকান যুদ্ধবিমান টহল দেওয়ার সময় ইরানের তরফে একাধিক সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ছোড়া হয়। পাশাপাশি, ইরানের ড্রোন ও বোটগুলি সমুদ্রে মাইন পেতে রেখেছে বলেও দাবি করেছে আমেরিকান প্রশাসন।

অন্য দিকে, আইআরজিসি ও ইরানের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, আমেরিকার এই পদক্ষেপ সংঘর্ষবিরতির পরিপন্থী। তেহরানের হুঁশিয়ারি, এর ফল আমেরিকাকেই ভুগতে হবে। ইরানের দাবি, তারা একটি আমেরিকার এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে।

এই উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, সংঘাত থামাতে একটি সমঝোতা খুব দ্রুত চূড়ান্ত হতে পারে। সূত্রের খবর, দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালীর বাণিজ্যিক জলপথ ফের খুলে দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে সেই পথ বন্ধ রেখেছে ইরান। পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষকে আরও ৬০ দিনের সময় দেওয়া হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।

বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে এই প্রণালী। ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-সহ বিশ্বের অন্যতম তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল রফতানির জন্য এই পথের উপর নির্ভরশীল। সংকীর্ণতম স্থানে হরমুজ প্রণালীর প্রস্থ মাত্র ৩৩ কিলোমিটার হওয়ায় সহজেই এই পথ অবরুদ্ধ করা সম্ভব।

এর আগে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা চলাকালীন ইরান শর্ত দিয়েছিল, হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলির থেকে তারা টোল আদায় করবে। প্রথম দিকে আমেরিকা সেই প্রস্তাবে নরম মনোভাব দেখালেও পরে আপত্তি তোলে। শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা আলোচনা ভেস্তে যায়। এরপরই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, হরমুজে ইরানি বন্দরে কোনও জাহাজের যাতায়াত আটকাতে আমেরিকান নৌবাহিনী অবরোধ চালাবে। পাশাপাশি, ইরানকে টোল দেওয়া জাহাজগুলিকেও চিহ্নিত করে আটক করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সেই মতো বর্তমানে হরমুজের মুখে মোতায়েন রয়েছে আমেরিকার নৌবাহিনীর বিশাল বহর। এর জেরে তেল ও গ্যাস সরবরাহেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।


Share