Middle East Conflict

‘চুক্তি করুন, নইলে ধ্বংস’! নিউ ইয়র্কে তিন ঘণ্টা আমেরিকা-ইরান বৈঠক, হরমুজ নিয়ে তেহরানের শর্তে বাড়ল উত্তাপ

বৈঠকটি ইতিবাচক হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ সংঘাতের আবহে দুই দেশের এই আলোচনা কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:০৬

ফের আলোচনার টেবিলে আমেরিকা ও ইরান। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার ফাঁকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক দফা বৈঠক করেছে ইরান। বৈঠকটি ইতিবাচক হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ সংঘাতের আবহে দুই দেশের এই আলোচনা কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। দুই দেশের সংঘাতে পশ্চিম এশিয়া বার বার উত্তপ্ত হয়েছে। সংঘাতের অবসান কবে হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালী-সহ পশ্চিম এশিয়ার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জলপথেও। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি-সহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াত করে। সংঘাতের জেরে সেই জলপথে জাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। কূটনৈতিক মহলের মতে, সংঘাতের আবহে আমেরিকা-ইরান বৈঠক আশার আলো জাগিয়েছে।

ইরানের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক হয়েছে বলে জানালেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও সেই বৈঠকে ট্রাম্প নিজে উপস্থিত ছিলেন না। আমেরিকার হয়ে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আলোচনায় বসেছিলেন। বৈঠক ‘ভাল’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন উইটকফ। ট্রাম্পও আলোচনার ফলাফল নিয়ে আশাবাদী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে চুক্তির পথে আসার বার্তাও দিয়েছেন।

ট্রাম্পের কথায়, ‘‘একটি চুক্তি করা ইরানের জন্যই সুবিধাজনক।’’ অতীতেও সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছনোর লক্ষ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে একাধিক বার আলোচনা হয়েছে। তবে কোনও বৈঠকই এখনও চূড়ান্ত সমাধানসূত্র বের করতে পারেনি। সেই প্রসঙ্গেই ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি ভাবতে পারি না কেন তারা (ইরান) চুক্তি করতে চাইবে না।’’ পাশাপাশি, চুক্তি না হলে ইরানকে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য, চুক্তিতে রাজি না হলে ইরান ‘ধ্বংস হয়ে যাবে’। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার ফাঁকে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় তেহরান ফের নিজেদের শর্তগুলি তুলে ধরেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। উইটকফের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন আরাঘচিই। বৈঠকে ইরানের তরফে হরমুজ প্রণালী খোলার বিষয়ে একাধিক শর্ত জানানো হয়েছে বলে খবর। আরাঘচির দাবি, অবিলম্বে ইরানের উপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত ইরানি সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া এবং ইরানের বিরুদ্ধে সমস্ত ধরনের সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়েছে। বৈঠক শেষে উইটকফ বলেন, বৈঠক নিয়ে উইটকফ বলেন, ‘‘আলোচনা ভাল হয়েছে।’’ একই সুরে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা দেখব এর (বৈঠক) ফলাফল কী হয়! তবে অবশ্যই চুক্তি করা ওদের জন্যই সুবিধাজনক।’’

রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় দেওয়া ভাষণেও ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, তেহরানের সামনে এখন কার্যত দু’টি পথ খোলা— আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করা, অথবা ফের ওয়াশিংটনের সামরিক অভিযানের মুখোমুখি হওয়া। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘এ বার আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইরানের সঙ্গে কি এমন কোনও চুক্তি করা সম্ভব, যা দেশটির পুনর্গঠনে সাহায্য করবে এবং অতীতের তুলনায় আরও শক্তিশালী ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার সুযোগ দেবে?’’ এর পরেই কড়া হুঁশিয়ারি দেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। চুক্তি না হলে ইরানকে ‘সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে প্রথম থেকেই সরব ট্রাম্প। তাঁর অবস্থান, তেহরানের সঙ্গে যে কোনও চুক্তির মূল শর্ত হতে হবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ। ইরান যাতে কোনও ভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করতে না পারে, সেটিই নিশ্চিত করতে চাইছে ওয়াশিংটন। অন্য দিকে, তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যেই পরিচালিত। পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা না হওয়াতেই এখনও পর্যন্ত ইরান-আমেরিকার একাধিক আলোচনা কোনও চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছোয়নি।

এই পরিস্থিতিতে নিউ ইয়র্কে তিন ঘণ্টার বৈঠক ঘিরে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে এই বৈঠক কোনও সমাধানের পথ খুলতে পারে কি না, এখন নজর গোটা বিশ্বের।


Share