Everest Helicopter Crash

এভারেস্টের কাছে অবতরণের সময় মুখোমুখি দুই হেলিকপ্টার! রোটর ব্লেডে সংঘর্ষ, ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত অন্তত ১, জখম দু’জন

এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের কাছে অবতরণের সময় দুই হেলিকপ্টারের রোটর ব্লেডে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে অন্তত এক বিদেশি পর্যটকের, আহত হয়েছেন আরও দু’জন।

নেপালে দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষের মূহুর্ত।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১১:৫২

নেপালের মাউন্ট এভারেস্ট সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অবতরণের সময় একই হেলিপ্যাডের দিকে এগিয়ে আসা দু’টি হেলিকপ্টারের রোটর ব্লেডে সংঘর্ষ হয়। এর জেরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেঙে পড়ে দু’টি কপ্টারই। মঙ্গলবার সকালে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের কাছে এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত এক বিদেশি পর্যটকের। আহত হয়েছেন আরও দু’জন। মৃত ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করেছে ‘কাঠমান্ডু পোস্ট’। যদিও নেপাল প্রশাসনের তরফে এখনও তাঁর জাতীয়তা নিশ্চিত করা হয়নি।

নেপালের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দু’টি হেলিকপ্টার একই সময়ে একটি হেলিপ্যাডে অবতরণের চেষ্টা করছিল। সেই সময়ই ঘটে বিপত্তি। দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, অবতরণের মুহূর্তে কপ্টার দু’টির রোটর ব্লেডে ধাক্কা লাগে। এরপরই ভেঙে পড়ে দু’টি হেলিকপ্টার। একটি কপ্টার মুখ থুবড়ে পড়ে।

সোলুখুম্বু জেলার পুলিশ প্রধান মৌসম তামাং জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় এক বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত এক নেপালি নাগরিক। অন্য দিকে, জেলার সহকারী মুখ্য জেলা আধিকারিক ভূপেন্দ্র থাপার দাবি, এই ঘটনায় দু’জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে হেলিকপ্টারে করে লুকলায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দুর্ঘটনাগ্রস্ত হেলিকপ্টার দু’টি নেপালের Fish Tail Air এবং Dynasty Air সংস্থার। নেপালের সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটির উপ-মুখপাত্র জ্ঞানেন্দ্র জানিয়েছেন, একটি কপ্টার লুকলা থেকে আসছিল। অন্যটি এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের কাছে গোরক্ষেপ এলাকা থেকে ফিরছিল। একই জায়গায় অবতরণের চেষ্টা করতে গিয়েই দু’টির মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, তুষারে ঢেকে থাকা হেলিপ্যাডের কারণে এই বিপত্তি ঘটে থাকতে পারে। বরফে ঢাকা নির্দিষ্ট অবতরণস্থলের পরিবর্তে অন্য জায়গায় নামার চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, এভারেস্ট অঞ্চলে পর্যটক ও পর্বতারোহীদের যাতায়াতের পাশাপাশি জরুরি উদ্ধারকাজেও হেলিকপ্টারের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া, তুষারপাত এবং অতিরিক্ত উচ্চতার কারণে এই অঞ্চলে বিমান চলাচল যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। উচ্চতায় বাতাসের ঘনত্ব কমে যাওয়ায় হেলিকপ্টারের রোটরের উত্তোলন ক্ষমতা এবং ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতাও প্রভাবিত হয়। ফলে এই দুর্ঘটনার পর হিমালয় অঞ্চলে হেলিকপ্টার চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


Share