Earthquake

মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে জোড়া ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলায়, মৃত অন্তত ৩২, ধ্বংসস্তূপে চাপা বহু মানুষ, চলছে উদ্ধারকাজ

ভেনেজুয়েলার অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৭০০ জন।

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প, মৃত অন্তত ৩২।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ভেনেজুয়েলা
  • শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ১২:২১

প্রথম ভূমিকম্পের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই ফের কেঁপে উঠল ভেনেজুয়েলা। মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে তছনছ পরিস্থিতি। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় প্রথমে ৭.২ মাত্রার এবং তার পরপরই ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রবল কম্পনে দুলে ওঠে একের পর এক ঘরবাড়ি। ভেনেজুয়েলার অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট  জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৭০০ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা। কম্পনের সময় আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন সাধারণ মানুষ।

মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে হওয়া ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাস এবং বন্দরশহর লা গুয়াইরায়। ভূমিকম্পের তীব্রতায় দুই শহরেই ভেঙে পড়েছে বাড়ি। রানওয়ে ভেঙে ভিতরে ঢুকে যাওয়ায় আপাতত ভেনেজ়ুয়েলার মূল বিমানবন্দরে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বর্তমান জরুরি পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-সহ অন্যান্য দেশ থেকে উদ্ধারকারী দল এবং মানবিক সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ছিল ক্যারিবীয় উপকূলের মোরন থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে। এর ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পরেই দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়, যা বেশি শক্তিশালী ছিল। দ্বিতীয়টির উপকেন্দ্র ছিল মোরনের মাত্র ১৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। ভূ-তত্ত্ববিদরা বলছেন, ভেনেজুয়েলায় এই ধরনের জোড়া ভূমিকম্প অত্যন্ত বিরল। তারা মনে করছে, জোড়া কম্পনে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশে ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে। দেশে ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পরেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ভেনেজুয়েলা প্রশাসন। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে সকলকে শান্ত থাকার আর্জি জানিয়েছেন। ভূমিকম্পে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেশের সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীকে অনুরোধ করা হয়েছে। আপাতত ভেনেজুয়েলার স্কুলগুলিতে পঠনপাঠন বন্ধ থাকছে।

ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। ইতিমধ্যেই উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে আমেরিকা। এই কঠিন সময়ে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির প্রতি সমর্থন ও সহমর্মিতার বার্তা দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। বৃহস্পতিবার সকালে সমাজমাধ্যমে করা এক পোস্টে তিনি লেখেন, “ভারতের জনগণের হয়ে আমি ভেনেজ়ুয়েলার সরকার, বিশেষত যাঁরা পরিজনেদের হারিয়েছেন, তাঁদের সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। এই দুঃসময়ে আমরা ভেনেজ়ুয়েলাবাসীর পাশে রয়েছি। ভারত যথাসম্ভব সাহায্য করতে প্রস্তুত।”

কারাকাস-সহ ভেনেজ়ুয়েলার একাধিক শহরে ধ্বংসস্তূপের নীচে বহু মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজে বিলম্বের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, দ্রুত ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপদে উদ্ধার করতে হবে। পরিস্থিতির গুরুত্ব স্বীকার করে ভেনেজ়ুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েসদাদো ক্যাবেলো জানান, অনেকেই ধৈর্য হারাচ্ছেন, তা তাঁরা বুঝতে পারছি। তবে নিয়ম মেনেই উদ্ধারকাজ চলছে। ত্রাণ বণ্টনের ক্ষেত্রেও যাঁদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাঁদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ভূতত্ত্ববিদদের মতে, গত এক শতকে ভেনেজ়ুয়েলায় এত শক্তিশালী ভূমিকম্প দেখা যায়নি। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োয় ধ্বংসের ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে। একটি ভিডিয়োয় দেখা যায়, কম্পন শুরু হতেই সিমন বলিভার বিমানবন্দরের টার্মিনাল কেঁপে উঠছে, আতঙ্কে ছুটোছুটি করছেন যাত্রীরা। অন্য একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, কারাকাসে ভূমিকম্পের অভিঘাতে বহুতল ভেঙে পড়ে সাদা ধুলোর মেঘে ঢেকে যাচ্ছে গোটা এলাকা।


Share