Donald Trump

রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করুক ইউক্রেন, জেলেনস্কিকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের! মস্কোর পাশে কেন ওয়াশিংটন?

এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিতে হামলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:০৫

রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে এ বার মস্কোর প্রতি তুলনামূলক নরম অবস্থান নিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার একাধিক তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিতে হামলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। সেখানেই রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা নিয়ে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিতে হামলা না করে ইউক্রেন নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে। তবে কোনও ভাবেই জ্বালানি পরিকাঠামোকে নিশানা করা উচিত নয়। তাঁর দাবি, ইউক্রেনের হামলার জেরে রাশিয়ায় ডিজেলের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরেই তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন উঠছে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলাকে সমস্যা হিসেবে দেখলেও মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে একই যুক্তি কেন প্রযোজ্য হবে না।

হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ ও সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলেও প্রশ্ন তোলা হয়। তবে ট্রাম্প সেই যুক্তি সরাসরি খারিজ করে দেন। তাঁর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হচ্ছে না। বরং রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলা সংঘাতই এর জন্য দায়ী। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে সামনে এল, যখন ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। ফলে যুদ্ধের ময়দানে রাশিয়ার উপর চাপ বাড়ানোর ইউক্রেনীয় কৌশল নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, চার বছর ধরে চলা রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ সাম্প্রতিক সময়ে আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিকে নিশানা করে ইউক্রন একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। এর জেরে মস্কোয় জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে পুতিনের সরকারকে পেট্রল-ডিজেল আমদানি করতে হচ্ছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, গত অগস্টে রাশিয়া বিশ্বজুড়ে যে পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করেছে, তার প্রায় ৭০ শতাংশই এসেছে ভারত থেকে। জানা গিয়েছে, রাশিয়ায় পাঠানো এক লক্ষ ২০ হাজার লিটার পেট্রলের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৭.৮ কোটি ইউরো। শুধু তাই নয়, জুলাইয়ের তুলনায় অগস্টে রাশিয়ার পেট্রল আমদানি প্রায় সাত গুণ বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছরের অগস্টে আমদানির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। রাশিয়ার একাধিক তেল শোধনাগার ইউক্রেনীয় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। সেই ঘাটতি মেটাতেই বাধ্য হয়ে মস্কোকে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ইউক্রেনকে রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা থেকে বিরত রাখার পিছনে আমেরিকার একাধিক কৌশলগত কারণ রয়েছে। ট্রাম্পের প্রশাসন জানে, মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা চরমে। হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হওয়ায় ইতিমধ্যেই বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদন আরও ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সঙ্কট আরও তীব্র হতে পারে। সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আমেরিকার পক্ষেও কঠিন হয়ে উঠবে। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসার জন্য ওয়াশিংটনের উপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর পাশাপাশি, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ওয়াশিংটন সম্প্রতি নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনকে কিছুটা সংযত করে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখাই ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের হিসাব, ইউক্রেনের উপর চাপ তৈরি করে রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা কমানো গেলে মস্কোর সঙ্গে আলোচনার পরিবেশও তৈরি করা সম্ভব। একই সঙ্গে রাশিয়ার ‘বেপরোয়া’ মনোভাবেও কিছুটা লাগাম টানা যেতে পারে বলে ওয়াশিংটন মনে করছে।


Share