Earthquake

দেড় মাসের ব্যবধানে ফের ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল চিন নিয়ন্ত্রিত তিব্বত! জোড়া কম্পনে মৃত ১৮, আহত ৫৬, ধ্বংস ৩০০-র বেশি বাড়ি

চিনের আর্থকোয়েক নেটওয়ার্ক সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭। এর প্রায় ৪০ মিনিট পর ফের কেঁপে ওঠে ওই অঞ্চল।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, তিব্বত
  • শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৪১

তিব্বতে ফের ভয়াবহ ভূমিকম্প। দেড় মাসের ব্যবধানে আবারও জোড়া কম্পনে কেঁপে উঠল তিব্বত ও সংলগ্ন চিনা ভূখণ্ড। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় রাত ৮টা ৩ মিনিটে প্রথম কম্পন অনুভূত হয়। চিনের আর্থকোয়েক নেটওয়ার্ক সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭। এর প্রায় ৪০ মিনিট পর ফের কেঁপে ওঠে ওই অঞ্চল। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, জোড়া ভূমিকম্পে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ৫৬ জন, তাঁদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ভূমিকম্পের তীব্রতায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দুর্গম পার্বত্য এলাকাগুলিতে। ৩০০-র বেশি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। বহু গবাদি পশুরও মৃত্যু হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ধসের কারণে একাধিক রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়েছে। বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। উত্তর তিব্বতের বাকেন কাউন্টির মারু টাউনশিপ এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জাতীয় ভূকম্পন সর্বেক্ষণ বা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল অরুণাচল প্রদেশের পান্ডিন থেকে প্রায় ৪৮৯ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল কম্পনের কেন্দ্র। তিব্বতের নাগকু থেকে ১৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ওই দুর্গম অঞ্চলটি রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৩৯০ কিলোমিটার দূরে।

প্রথম কম্পনের প্রায় ৪০ মিনিট পর, ভারতীয় সময় রাত ৮টা ৪২ মিনিট নাগাদ ফের ভূমিকম্প হয়। দ্বিতীয় কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫। এর উৎসস্থল ছিল অরুণাচল প্রদেশের বাসার থেকে প্রায় ৩২৩ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার গভীরে ছিল কম্পনের কেন্দ্র।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিন সরকার লেভেল-৩ সতর্কতা জারি করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে ত্রাণসামগ্রী ও বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ওই অঞ্চলে ভারী তুষারপাতের পূর্বাভাস থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করা না গেলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ অগস্ট তিব্বত-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে খবর। নিখোঁজ ছিলেন প্রায় সমসংখ্যক মানুষ। এর পর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেও সাড়ে ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল তিব্বত। এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চিনের গানসু প্রদেশে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১২০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।


Share