Nigeria Killings

আবার নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তিন জনকে হত্যা করল ইসলামি জঙ্গিরা, অপহৃত ক‍্যাথলিক যাজক-সহ অন্তত ১০ জন

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রবিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা সংকট ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সংগঠনটি সরকারকে “চরম অযোগ্য” বলে আখ্যায়িত করেছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:০৯

আবার নাইজেরিয়ায় তিন জনকে হত্যা করল ইসলামি জঙ্গিরা। উত্তর নাইজেরিয়ার কাদুনা রাজ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। এক ক‍্যাথলিক যাযক-সহ ১০ জনকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছে। গির্জা এবং পুলিশ এমনটাই জানিয়েছে।

শনিবার স্থানীয় সময় ৩টে ২০ মিনিট নাগাদ কাউরু জেলার যাজকের বাসভবনে ইসলামি জঙ্গি হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। অপহৃত যাজকের নাম নেথানিয়েল আসুয়ায়ে। নেথানিয়েল কার্কুর হোলি ট্রিনিটি ক্যাথলিক চার্চের প্যারিশ যাজক ছিলেন। ওই দিন ইসলামি জঙ্গিরা যাজকের বাসভবনে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। ঘটনায় তিন জন নিহত হয়েছেন। যাজক নেথানিয়েলের সঙ্গে আরও ১০ জনকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছে ইসলামি জঙ্গিরা। কাফানচান ক্যাথলিক ডায়োসিস যাজকের অপহরণ এবং তিন জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

এই অঞ্চলে একের পর এক ঘটে যাওয়া হামলার ঘটনাগুলি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। নাইজেরিয়ার সরকার সেদেশের খ্রিস্টানদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। যদিও আবুজা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত ২৫ ডিসেম্বর আমেরিকার সেনাবাহিনী উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় ইসলামি সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছিল।

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রবিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা সংকট ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সংগঠনটি সরকারকে “চরম অযোগ্য” বলে আখ্যায়িত করেছে। দেশের সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। ইসলামি জঙ্গিরা নাইজেরিয়ার কাদুনা-সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে হত্যা, অপহরণ ও সন্ত্রস্ত করছে বলেও জানায় তারা।

কাদুনা পুলিশের এক মুখপাত্র ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি অপহৃতদের সংখ্যার বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, নিহত তিন জনের মধ্যে দু’জন সেনাবাহিনীর সদস্য এবং একজন পুলিশ আধিকারিক। তিনি বলেন, “যা ঘটেছে তা হলো পাঁচ জনকে অপহরণ করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রধান যাজকও রয়েছেন। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর জওয়ানেরা হামলাকারীদের ধাওয়া করেছে। এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে।” তিনি আরও বলেন, “নিরাপত্তা বাহিনী ডাকাতদের সঙ্গে গোলাগুলির সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তারা কয়েক জনকে হত্যা করেছে। দুর্ভাগ্যবশত দু’জন সেনাকর্মী ও একজন পুলিশ আধিকারিক প্রাণ হারিয়েছেন।”

এই ঘটনা আবার ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার প্রশ্নকে আরও জোরালো করল। কারণ কিছুদিন আগে নিরাপত্তা বাহিনী কাদুনার অন্য দুটি গির্জা থেকে অপহৃত হওয়া ১৬৬ জন খ্রিস্টান উপাসকদের উদ্ধার করেছিল।


Share