Laskar-e-Taiba

অজ্ঞাতপরিচয়ের হাতে খুন লস্করের ৩০ জন জঙ্গি, স্বীকার করল পাকিস্তানের ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন, দোষ দেওয়া হল ভারতকে

রিজওয়ানের বক্তব্যে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। ভিডিয়োতে রিজওয়ান আরও দাবি করেছে, “কাশ্মীরে ভারতীয় গোয়েন্দারা আমাদের লোকেদের শান্তিতে থাকতে দেয়নি।” ভারতীয় গোয়েন্দাদের জন্যই লস্কর-ই-তৈয়বার ইসলামিক জঙ্গিরা নিহত হয়েছে বলে দাবি করে। ভারত এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইসলামিক জঙ্গি রিজওয়ান হানিফ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৬ ১২:১১

গত কয়েক বছরে কোনও এক অজ্ঞাতপরিচয়ের হাতে লস্কর-ই-তৈয়বার জঙ্গিরা খুন হয়েছে। তা মেনে নিল পাকিস্তানের ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের নেতা রিজওয়ান হানিফ। সামাজমাধ‍্যমে সেই ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে রিজওয়ান দাবি করছে, গত ৩-৪ বছরে তাদের সংগঠনের সদস্যদের বেছে বেছে হত‍্যা করা হয়েছে। এই খুনগুলি কে সংগঠিত করছে তার পরিচয় পাকিস্তানের এই ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের কাছে। অজানা। এর পরেই ভারতের দিকে আঙুল তুলেছে জঙ্গি রিজওয়ান।

সম্প্রতি লস্কর-ই-তৈয়বার শীর্ষ জঙ্গিনেতা রিজওয়ান হানিফের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ‍্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে সেই ভিডিয়ো রেকর্ড করা হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়। সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ওই ভিডিয়ো গত মে মাসে রেকর্ড করা হয়েছিল। সেই ভিডিয়োতে রিজওয়ান লস্কর-ই-তৈয়বার সদস্যদের উদ্দেশ্য বক্তব্য রাখতে দেখা যাচ্ছে। তাতে রিজওয়ান ৩০ জন ইসলামিক জঙ্গির মৃত্যুর কথা স্বীকার করতে দেখা যাচ্ছে। নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এই স্বীকারোক্তি গত কয়েক বছরে অন‍্যতম বড় স্বীকারোক্তি বলে মনে করা হচ্ছে। 

সংগঠনের জঙ্গিদের রিজওয়ান বলছে, “গত তিন-চার বছরে আমাদের ৩০ জনের বেশি সঙ্গী নিহত হয়েছে।” রিজওয়ানের কথায়, রাওয়ালপিন্ডি, করাচি, মুজফ্ফরাবাদ, পেশোয়ার, রাওয়ালকোট-সহ একাধিক জায়গায় লস্করের সদস্যদের ওপরে হামলা হয়েছে। এই অজ্ঞাতপরিচয়ের হাতে এই ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানের ভিতরে যা ঘটনা ঘটে তা নিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ভারতের ওপরে দোষ চাপায়। এ ক্ষেত্রেও কোনও বিচ‍্যুতি ঘটেনি। এই ঘটনাগুলির নেপথ্যে ভারতের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করে ‘হতাশাগ্রস্ত’ রিজওয়ান। 

রিজওয়ানের বক্তব্যে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। ভিডিয়োতে রিজওয়ান আরও দাবি করেছে, “কাশ্মীরে ভারতীয় গোয়েন্দারা আমাদের লোকেদের শান্তিতে থাকতে দেয়নি।” ভারতীয় গোয়েন্দাদের জন্যই লস্কর-ই-তৈয়বার ইসলামিক জঙ্গিরা নিহত হয়েছে বলে দাবি করে। ভারত এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত এপ্রিলেই লাহোরে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা সদস‍্য আমির হামজাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েক জন। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পাকিস্তানের একটি সংবাদমাধ্যমের দফতরের সামনে গুলি চালানো হয়। তার আগেও এই ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের একাধিক সদস্যকে প্রকাশ্য রাস্তায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা গুলি করে খুন করে পালিয়ে যায়।


Share