Terror Attack

দুবাইয়ে হামলাকারী পাইলট গ্রেফতার, যাত্রী বোঝাই বিমান ‘ক্রাশ’ করার চেষ্টা করা হয়েছে, বিবৃতি দিলেন নেতানিয়াহু

নেতানিয়াহুর দফতরের মুখপাত্র ডোরোন স্পিয়েলম্যান সরাসরি তেমন কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর দাবি করেছেন, এটা কোনও ‘হাইজ্যাকের’ চেষ্টা নয়। বিমানটি ছিনতাই করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে না। স্পিয়েলম্যানের কথায়, “এটা অন্য রকম ঘটনা।”

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১০

দুবাইয়ের বিমানে আক্রমণকারী পাইলটকে গ্রেফতার করেছে দুবাই। অভিযুক্ত পাইলটকে দুবাই জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বুধবার সন্ধ্যায় এমনটাই জানিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সৌদির কর্তাদের সঙ্গে ইজরায়েল প্রতিনিয়ত যোগাযোগে রয়েছে। যাত্রীদের দুবাই থেকে ইজরায়েলের ফিরিয়ে আনার ব‍্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।

ফ্লাইদুবাই সংস্থার বিমান সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। মাঝ-আকাশে ককপিটেই দুই পাইলট নিজেদের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, বিমানটিকে হাইজ্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এক পাইলট অন্য জনকে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপান। ককপিট রক্তে ভেসে যায়। প্রাথমিক ভাবে ইজরায়েল কর্তৃপক্ষ একে ইসলামিক জঙ্গি হামলা হিসেবেই দেখছে। যদিও ইজরায়েল আনুষ্ঠানিক ভাবে তা জানায়নি।

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তিনি বিমান থাকা এক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। ওই যাত্রী নেতানিয়াহুকে জানিয়েছেন, বিমানের এক পাইলট অন্য পাইলটকে আক্রমণ করে। তার পরেই বিমানটিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল। সেখানকারই এক বিমানকর্মীর প্রচেষ্টায় বিমানটিকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে আসে। 

নেতানিয়াহু আরও জানিয়েছেন, যে পাইলট অন্য জনকে আক্রমণ করেছিলেন, তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ তাঁকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। নেতানিয়াহু বলেন, “সমস্ত যাত্রী এখন বিপদমুক্ত। ওই পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইজরায়েলে তাঁদের ফিরিয়ে আনতে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি।”

যে সমস্ত যাত্রী এবং বিমানকর্মীরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিরস্ত্র করেন, তাঁদের সাহসকে কুর্নিশ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাঁদের তিনি ‘হিরো’ বলে চিহ্নিত করে বলেছেন, “যাঁরা এই অসাধারণ সাহসের পরিচয় দিয়েছেন, তাঁদেরকে স্যালুট জানাই। ওঁরা অনেক প্রাণ বাঁচিয়েছে দিয়েছেন। তাঁদের সাহসিকতার জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করেছে।”

ইজরায়েল সরকারের এক মন্ত্রী ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর দাবি, বিমানটিকে আসলে ‘ক্র্যাশ’ করানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে মনে তাঁরা করছেন। ইজরায়েলের নিরাপত্তামন্ত্রী ইটামার বেন গিভিরের দাবি, ফ্লাইদুবাই সংস্থার বিমানটিকে ইসলামিক জঙ্গিরা ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল। কারণ, ওই বিমানে অধিকাংশই ইজরায়েলের বাসিন্দা ছিলেন। সন্ত্রাসবাদীদের নিশানায় মূলত তাঁরাই ছিলেন। 

তবে নেতানিয়াহুর দফতরের মুখপাত্র ডোরোন স্পিয়েলম্যান সরাসরি তেমন কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর দাবি করেছেন, এটা কোনও ‘হাইজ্যাকের’ চেষ্টা নয়। বিমানটি ছিনতাই করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে না। “এটা অন্য রকম ঘটনা” বলে দাবি করেছেন স্পিয়েলম্যান।


Share