Middle East Conflict

হরমুজ নিয়ে কাটছে না অচলাবস্থা, শেষ ৬০ দিনের শান্তিচুক্তি! ফের মুখোমুখি আমেরিকা-ইরান, বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে অচলাবস্থা এবং দুই দেশের সামরিক প্রস্তুতি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

হরমুজ নিয়ে কাটছে না অচলাবস্থা, শেষ ৬০ দিনের শান্তিচুক্তি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬ ০৫:২২

হরমুজ প্রণালী ঘিরে জট এখনও কাটেনি। বরং আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ক্রমশ চরমে উঠছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে হওয়া শান্তিচুক্তির মেয়াদ গত সোমবার শেষ হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তৈরি ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ছিল ৬০ দিন। কিন্তু বাস্তবে সেই চুক্তি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কোনও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারেনি বলেই মনে করা হচ্ছে। বরং চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে অচলাবস্থা এবং দুই দেশের সামরিক প্রস্তুতি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। ফলে আগামী দিনে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সে দিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে হওয়া ৬০ দিনের চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল চলমান যুদ্ধে দাঁড়ি টেনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা। চুক্তি অনুযায়ী, উভয় পক্ষকে লেবানন-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকার অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি ইরানের আশপাশের এলাকা থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহার, ইরানের তেল রফতানিতে ছাড় এবং বিদেশে থাকা ইরানের সম্পত্তির উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়। অন্য দিকে, আমেরিকার শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন সরিয়ে ইরানকে ৬০ দিনের জন্য জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা না করার প্রতিশ্রুতিও দিতে হবে।

সবকিছু ঠিকঠাক এগোলেও চুক্তির পাঁচ নম্বর অনুচ্ছেদই শেষ পর্যন্ত মূল সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতের রূপরেখা তৈরি করতে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনার কথা ওই অনুচ্ছেদে উল্লেখ ছিল। কিন্তু সেখান থেকেই জটিলতা শুরু হয়। দুই দেশই নিজেদের উপকূল দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য আলাদা মানচিত্র প্রকাশ করে। এর পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওমানের নির্ধারিত পথ দিয়ে যাওয়া একাধিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালায়। পাল্টা জবাব দেয় আমেরিকাও। তবে সম্প্রতি ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, নৌপথ নিয়ে শেষ পর্যন্ত ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।

চুক্তির পথে লেবানন দ্বিতীয় বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ইজরায়েল লেবাননে হামলা শুরু করে। তেল আভিভের দাবি ছিল, ওই চুক্তির আওতায় লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান পড়ে না। এর জেরে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি এবং কার্যত ভেস্তে যায় শান্তি সমঝোতার সম্ভাবনা। ৬০ দিনের এই সময়সীমার মধ্যেই ইরান ও ইজরায়েল একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিক হামলা চালায়। এরই মধ্যে ইরানের তরফে ঘোষণা করা হয়, কোনও আমেরিকান সেনাকে হত্যা করতে পারলে ২৮ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। হত্যাকারী মহিলা হলে সেই পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ করার কথাও জানানো হয়। সব মিলিয়ে সংঘাত ও পাল্টা হামলার আবহেই আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ হয়ে যায় আমেরিকা-ইরান শান্তিচুক্তি।


Share