Middle East Conflict

যুদ্ধের ক্ষত মুছে ফিরছে হরমুজ! আমেরিকা-ইরান শান্তি সমঝোতার পর বাড়ল জাহাজ চলাচল, তবু নিয়ন্ত্রণে কড়া বার্তা তেহরানের

তবে জাহাজ চলাচল শুরু হলেও হরমুজের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার বার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, যুদ্ধ শুরুর আগের পরিস্থিতিতে আর কখনও ফিরবে না এই জলপথ।

হরমুজ প্রণালী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ০৮:১৯

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি-সমঝোতার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম সিএনএন ‘মেরিনট্রাফিক ডেটা’-র তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, রবিবার থেকে সোমবারের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় দুই ডজন বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ় প্রণালী অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি জাহাজ পারস্য উপসাগর থেকে বেরিয়ে এসেছে, আবার কয়েকটি ওই জলপথ ধরে উপসাগরে প্রবেশ করেছে।

সিএনএনের প্রকাশিত মানচিত্রে দেখা গিয়েছে, ওমান ও পারস্য উপসাগরের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ এই প্রণালী দিয়ে একাধিক জাহাজ নিয়মিত যাতায়াত করছে। তবে জাহাজ চলাচল শুরু হলেও হরমুজের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার বার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, যুদ্ধ শুরুর আগের পরিস্থিতিতে আর কখনও ফিরবে না এই জলপথ।

সোমবার শান্তি-আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিদলের প্রধান মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেন, “আমিই প্রথম স্পষ্ট করে বলেছিলাম, হরমুজ প্রণালী আর কখনও যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরবে না। সকলের সেটা জানা উচিত।” একই সঙ্গে তিনি জানান, আমেরিকার উপর ইরানের আস্থা নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। তবে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে একটি বিশেষ ‘টেলিফোন হটলাইন’ চালু করতে সম্মত হয়েছে তেহরান। এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলি প্রয়োজনে ওই হটলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবে।

যদিও দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার দায়িত্ব নিয়েছে ইরান। পাশাপাশি জাহাজগুলির উপর অতিরিক্ত কোনও শুল্ক আরোপ না করার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ভবিষ্যতে এই জলপথের পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে ওমান এবং পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলির সঙ্গে বৃহত্তর সমন্বয়ের আশ্বাসও দিয়েছে তেহরান।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ় প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহণের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই সম্পন্ন হয়। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে ১১০টিরও বেশি জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করত। সংঘাতের জেরে ইরান অধিকাংশ দেশের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পাল্টা আমেরিকা ইরানের বন্দরগুলিতে নৌ অবরোধ আরোপ করলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে।


Share