Middle East Conflict

ফের উত্তপ্ত হরমুজ প্রণালী, আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস জলাধার, পানীয় জলের সংকটে ২০ হাজার পরিবার

এই জলাধার থেকেই শহরের হাজার হাজার বাসিন্দার কাছে পরিশোধিত পানীয় জল সরবরাহ করা হত। হামলার পর প্রকাশিত ছবিতে জলাধারগুলির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে।

একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস দুটি জলাধার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ইরান
  • শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ০৫:৪২

হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আমেরিকার হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে। বুধবার জাস্ক, সিরিক এবং কাশেম দ্বীপকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে ইরানের সরকারি সূত্রের দাবি। এই হামলায় সিরিক শহরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পানীয় জলাধার ধ্বংস হয়ে যায়। এর ফলে প্রায় ২০ হাজার পরিবার মারাত্মক জলসঙ্কটের মুখে পড়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ধ্বংস হওয়া জলাধার দু’টির ধারণক্ষমতা ছিল যথাক্রমে ৫০০ ও ২০০০ কিউবিক মিটার। এই জলাধার থেকেই শহরের হাজার হাজার বাসিন্দার কাছে পরিশোধিত পানীয় জল সরবরাহ করা হত। হামলার পর প্রকাশিত ছবিতে জলাধারগুলির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে।

ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি তাপমাত্রার মধ্যে জল সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পর্যাপ্ত ভূগর্ভস্থ জলভাণ্ডার না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বাধ্য হয়ে বহু মানুষ অপরিশোধিত জল ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ।

এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থার আঞ্চলিক প্রতিনিধির বক্তব্য, জল সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে। জলবাহিত রোগের আশঙ্কাও বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে তারা।

উল্লেখ্য, গত সোমবার হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি আমেরিকার অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার ঘটনার পর থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে আমেরিকা। আমেরিকার নৌ ও বিমানবাহিনী যৌথভাবে একাধিক হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

এরই মধ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ইরানকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “ওরা চুক্তির জন্য সমঝোতা করতে অনেক বেশি সময় নিয়ে ফেলেছে। চুক্তি করলে তা ওদের জন্য খুব ভাল হত। কিন্তু এখন ওদের মূল্য চোকাতে হবে।’’

ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, শুধু সিরিক নয়, মিনাব, বন্দর আব্বাস এবং কাশেম দ্বীপ এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে ইরান। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 


Share