Middle East Tension

ইরানের তেহরানে আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ অভিযান, স্বৈরশাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু, নিশ্চিত করলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

নেতানিয়াহুর দাবি, তেহরান-সহ ইরানের একাধিক স্থানে হামলার পর খামেনেইয়ের অবস্থানস্থল ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং তাঁর মৃত্যুর একাধিক ‘ইঙ্গিত’ মিলেছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেছেন, যত দিন প্রয়োজন হবে তত দিন ইরানের উপর ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলা চলবে।

স্বৈরশাসক আয়াতেন্না আলি খামেনেই নিকেশ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ইরান
  • শেষ আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৬ ০৩:১৬

ইরানের স্বৈরশাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। ভারতীয় সময় সাড়ে তিনটে নাগাদ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন। একই ভাবে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সে দেশের শীর্ষ সেনাকর্তারা এই সংবাদ জানিয়েছেন।

একটি সংবাদমাধ্যমকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানান, তিনি মনে করেন এই খবর সত্য হতে পারে। তবে প্রথমে এই দাবি সম্পূর্ণ ভাবে অস্বীকার করলেও ইরানের সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম এই খবর নিশ্চিত করেছে।

নেতানিয়াহুর দাবি, তেহরান-সহ ইরানের একাধিক স্থানে হামলার পর খামেনেইয়ের অবস্থানস্থল ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তাঁর মৃত্যুর একাধিক ‘ইঙ্গিত’ মিলেছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেছেন, যত দিন প্রয়োজন হবে তত দিন ইরানের ওপর ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলা চলবে। ইজরায়েলের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও দাবি করেছে, খামেনেইয়ের মৃত্যুর প্রমাণ হিসেবে তাঁর দেহ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে দেখানো হয়েছে।

শনিবার সকাল থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থানে ইজরায়েল হামলা চালায়। ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সের দাবি, এই অভিযানে ইরানের স্বৈরশাসক খামেনেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ইজরায়েলকে সহায়তা করেছে। নেতানিয়াহুও যৌথ অভিযানের কথা স্বীকার করেছেন।

সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ইতিহাসের পাতার অন্যতম কুখ্যাত ব্যক্তি খামেনেই। তাঁর বাহিনীর হাতে যাঁদের অঙ্গহানি বা মৃত্যু হয়েছে তাঁদের প্রতি ন্যায়বিচার হল। তাঁর দাবি, উন্নত গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার সাহায্যে এই অভিযান সফল হয়েছে। তিনি বিদেশে থাকা ইরানিদের দেশে ফেরার আহ্বানও জানান। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের বিভিন্ন বাহিনী এখন যুদ্ধবিরতি চাইছে। পাশাপাশি ইরানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অন্তত এক সপ্তাহ বোমাবর্ষণ চলবে।

অন্যদিকে, খামেনেইয়ের প্রতিনিধি আব্দুল মাজিদ হাকিম দাবি করেছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ আছেন। তাঁর দাবি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ‘মর্যাদা’ ও ‘প্রজ্ঞা’-র সঙ্গে এগিয়ে যাবেন। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম খামেনেইয়ের জনসংযোগ দফতরকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, দেশকে মানসিকভাবে দুর্বল করতে শত্রুপক্ষ ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে। তাঁরা ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ‘মানসিক যুদ্ধ’ চালানোর অভিযোগও তুলেছে। যদিও পরে মৃত‍্যু সংবাদ তাঁদের তরফেও জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। অতীতে আমেরিকাও একাধিকবার সতর্কবার্তার পর ইরানে হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশীয় বিক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়েছে খামেনেইকে। বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড ঘিরেও আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে খামেনেই জীবিত না নিহত, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে গভীর ধোঁয়াশা। একদিকে ইজরায়েলের দাবি ‘মৃত’, অন্যদিকে ইরানের দাবি তিনি ‘সম্পূর্ণ সুস্থ’। ফলে পরিস্থিতি ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।


Share