PoK Protesters Killed

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের ওপর রকেট হামলা! চলল নির্বিচারে গুলি, চার শিশু-সহ নিহত ১৮

রকেট হামলা ও নির্বিচারে গুলিতে চার শিশু-সহ ১৮ জনের মৃত্যু, নতুন করে উত্তপ্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীর।

উত্তপ্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ১১:৫৪

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ দমনে ভয়াবহ হামলার অভিযোগ উঠল পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে। রাওয়ালকোটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে আরপিজি-৭ রকেট ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তান রেঞ্জার্স, ফ্রন্টিয়ার কোর এবং পুলিশের বিরুদ্ধে। শুক্রবার ভোরের এই ঘটনায় চার শিশু-সহ অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি।

পাকিস্তানের একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শুক্রবার ভোরে রাওয়ালকোট বাস টার্মিনালের কাছে কয়েকশো বিক্ষোভকারী জমায়েত হয়েছিলেন। নমাজ শেষ করে তাঁরা কাছের একটি চত্বরে সমবেত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই তাঁদের লক্ষ্য করে রকেট ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। বিকট বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।

অভিযোগ, এর পরেই পাকিস্তান রেঞ্জার্স, ফ্রন্টিয়ার কোরের সদস্য এবং পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গুলিতে ২০ থেকে ২৫ জন আন্দোলনকারী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে রক্ত। পাশাপাশি, আশপাশের বাড়িঘর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা এবং কয়েকটি এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়রাই উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা চার শিশু-সহ ১৮ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকিদের চিকিৎসা চলছে।

উল্লেখ্য, সস্তায় খাবার এবং উন্নত শিক্ষার দাবিতে গত জুন মাস থেকেই আন্দোলনে নেমেছেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ দমন করতেই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। হামলার পর রকেটের টুকরো দেখিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির নেতা উমর নাজ়ির। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নির্দেশেই এই হামলা হয়েছে।

তবে সরকারের সঙ্গে কোনও সমঝোতায় যেতে নারাজ JAAC নেতারা। তাঁদের দাবি, এই ঘটনার জন্য আসিম মুনিরকে জবাবদিহি করতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাওয়ালকোটের একাধিক এলাকায় ইন্টারনেট ও টেলিফোন পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহও। ফলে ক্রমশ বাড়ছে উদ্বেগ ও উত্তেজনা।


Share