Middle East Conflict

ইরানের নির্দেশে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে গুলি করে খুনের চেষ্টা করেছিল পাকিস্তানের ব‍্যবসায়ী, আদালতে দোষ স্বীকার

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ফেডেরাল কোর্টে তাঁর বিচার চলছে। সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে মার্চেন্টের বিরুদ্ধে। আদালতে তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পকে খুনের নির্দেশ দিয়েছিলেন ইরানের নাগরিক মেহরদাদ ইউসুফ, যিনি আবার ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের সদস্য। ফলে এই ঘটনার সঙ্গে তেহরান প্রশাসনের নামও জড়িয়ে পড়েছে।

ডোলান্ড ট্রাম্প
নিজস্ব সংবাদদাতা, ইরান
  • শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ০৫:৪৮

আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্পকে খুনের ছক কষার অভিযোগে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইরানের নির্দেশে এই পরিকল্পনা করেছিলেন এক পাকিস্তানি ব্যবসায়ী। চলতি আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের আবহে বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। বুধবার মার্কিন আদালতে নিজের মুখেই সেই কথা স্বীকার করেছেন পাকিস্তানের নাগরিক আসিফ মার্চেন্ট।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ফেডেরাল কোর্টে তাঁর বিচার চলছে। সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে মার্চেন্টের বিরুদ্ধে। আদালতে তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পকে খুনের নির্দেশ দিয়েছিলেন ইরানের নাগরিক মেহরদাদ ইউসুফ, যিনি আবার ইরানের শক্তিশালী বাহিনী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোরের সদস্য। ফলে এই ঘটনার সঙ্গে তেহরান প্রশাসনের নামও জড়িয়ে পড়েছে।

৪৭ বছর বয়সি মার্চেন্ট আদালতে জানান, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তাঁকে আমেরিকায় পাঠানো হয় খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য। প্রথমে কাকে হত্যা করতে হবে তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। পরে তাঁকে বলা হয়, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং সাউথ ক্যারোলাইনার প্রাক্তন গভর্নর নিকি হ্যালেকে এই তিন জনকে খুন করতে হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন জনকে হত্যা করার জন্য দুই ঘাতকও খুঁজে বের করেছিলেন মার্চেন্ট। অগ্রিম হিসেবে তিনি ৫০০০ মার্কিন ডলারও দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি জানতেন না, যাঁদের তিনি ভাড়াটে খুনি ভেবেছিলেন, তাঁরা আসলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর এজেন্ট। ২০২৪ সালের জুন মাসেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

তবে মার্চেন্ট আদালতে দাবি করেছেন, চাপের মুখে তিনি এই কাজে জড়িয়েছিলেন। তাঁর দাবি, কাজটি না করলে ইরানে থাকা তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। আদালতে তিনি বলেন, “আমার কাছে অন্য কোনও উপায় ছিল না। আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।”

জানা গিয়েছে, মার্চেন্ট আগে পাকিস্তানের একটি ব্যাঙ্কে উচ্চপদে কাজ করতেন। পরে ব্যবসা শুরু করলেও তেমন সাফল্য পাননি। কীভাবে তিনি ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর এক সদস্যের সংস্পর্শে এলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প দাবি করেছেন, ২০২৪ সালে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই তাঁকে দু’বার হত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, “উনি (খামেনেই) আমাকে পাওয়ার আগে আমিই ওঁকে পেয়ে গিয়েছি। ওঁরা দু’বার চেষ্টা করেছিলেন। আমি প্রথম বারেই পেয়ে গেলাম।” তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ডোলান্ড ট্রাম্প। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পেনসিলভেনিয়ার সভায় তাঁর কান ঘেঁষে বেরিয়ে গিয়েছিল গুলি। ওই বছরই সেপ্টেম্বরে ওয়েস্ট পাম বিচে গল্‌ফ খেলার সময় ট্রাম্পের দিকে বন্দুক তাক করার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কয়েক মাস পরে আফগানিস্তানের বাসিন্দা ফারহাদ শাকেরির বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে খুনের ছক কষার অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়েছিল। ২০০৮ সালে তাঁকে আমেরিকা থেকে বার করে দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, ট্রাম্পকে খুনের ছক কষেছিল ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরান সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। এ ক্ষেত্রেও তেহরান একই পথে হাঁটবে বলেই মনে করা হচ্ছে।


Share