Dark Mode Voyage

ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকি এড়িয়ে ‘গো ডার্ক’ যাত্রা, হরমুজ পেরিয়ে মুম্বই বন্দরে পৌঁছল তেলবাহী ‘শেনলং সুয়েজম্যাক্স’

১ মার্চ সৌদি আরবের রাস তান্দুরা বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল বোঝাই করে জাহাজটি। দু’দিন পরে সেখান থেকে যাত্রা শুরু করে। ততদিনে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ পার হওয়াই তখন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুম্বই
  • শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ ১২:০১

চোরাচালান, অবৈধ মৎস্য শিকার, সমুদ্রে বর্জ্য ফেলা কিংবা বন্দরের মাশুল এড়াতে পারস্য উপসাগরে বহু জাহাজ সংস্থা প্রায়ই ‘লুকোচুরি’ খেলে। তবে এবার সেই কৌশল ব্যবহার করতে হল প্রাণ বাঁচানোর জন্য। নিজেকে কার্যত ‘অদৃশ্য’ করে বুধবার দুপুর ১টা নাগাদ মুম্বই বন্দরে নোঙর ফেলেছে হরমুজ প্রণালী থেকে আসা ‘শেনলং সুয়েজম্যাক্স’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজ। গোলাগুলি ও ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকি এড়িয়ে ‘হাইড-আউট’ যাত্রা করেই ভারতে পৌঁছেছে সেটি। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম অপরিশোধিত তেল বোঝাই কোনও জাহাজ ভারতে পৌঁছল।

১ মার্চ সৌদি আরবের রাস তান্দুরা বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল বোঝাই করে জাহাজটি। দু’দিন পরে সেখান থেকে যাত্রা শুরু করে। ততদিনে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ পার হওয়াই তখন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল।

প্রতিটি জাহাজেই সাধারণত ‘অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম’ থাকে, যার মাধ্যমে জাহাজের অবস্থান, গতিপথ এবং গতি সম্পর্কে তথ্য অন্য জাহাজ ও পর্যবেক্ষণকারী কর্তৃপক্ষ জানতে পারে। মেরিটাইম ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ৮ মার্চ শেষবার হরমুজ প্রণালীতে ‘শেনলং সুয়েজম্যাক্স’-এর সংকেত পাওয়া গিয়েছিল। তার পরেই জাহাজটি ‘গো ডার্ক’ মোডে চলে যায়। অর্থাৎ বিশালাকৃতির জাহাজটি ধীর গতিতে সমুদ্রে এগিয়ে চললেও তার অবস্থান সম্পর্কে কোনও তথ্য বাইরে পৌঁছচ্ছিল না।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, ‘স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা’ বন্ধ করে দেওয়া আইনবিরুদ্ধ। সাধারণত অবৈধ কর্মকাণ্ড গোপন রাখতেই অনেক জাহাজ ‘ডার্ক শিপ’ মোডে চলে যায়। তবে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এই জাহাজের ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল নিরাপত্তাজনিত। সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নজর এড়িয়ে নিরাপদে পৌঁছতেই জাহাজটি সাময়িকভাবে এই পদ্ধতি নেয়।

‘শেনলং শিপিং লিমিটেড’-এর মালিকানাধীন এবং এথেন্সের 'ডাইনাকম ট্যাঙ্কার ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড'-এর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত জাহাজটিতে মোট ২৯ জন কর্মী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান এবং ফিলিপিন্সের নাগরিকরা আছেন। জাহাজটির ক্যাপ্টেন সুখশান্ত সিং সান্ধু।

মুম্বই বন্দর কর্তৃপক্ষের ডেপুটি কনজারভেটর প্রবীণ সিং জানিয়েছেন, জাহাজটি ১,৩৫,৩৩৫ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল বহন করে এনেছে। বর্তমানে এটি জওহর দ্বীপ টার্মিনালে নোঙর করে পণ্য খালাসের কাজ শুরু করেছে। এই তেল মুম্বইয়ের পূর্বাঞ্চলের মাহুল এলাকার তেল শোধনাগারগুলিতে সরবরাহ করা হবে।

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং-এর তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে এখনও ভারতের ২৮টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী বা তার আশপাশের জলে অবস্থান করছে। তবে যুদ্ধ শুরুর সময় প্রণালীর পূর্ব দিকে থাকা ভারতীয় পতাকাবাহী আটটি জাহাজ ইতিমধ্যেই অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জলসীমায় সরে যেতে পেরেছে।


Share