Middle East Crisis

দু'হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ভারতে পৌঁছোল তেলবাহী এমটি অলিম্পিক লাইফ, ভিতরে আটকে থাকা ওয়ারহেড নিষ্ক্রিয় করল নৌসেনা

ভারতীয় নৌসেনার বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞরা কয়েক ঘণ্টার অভিযানে সেটিকে নিরাপদে উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করেন।

তেলবাহী জাহাজে ওয়ারহেড উদ্ধার অভিযান নৌসেনার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কেরল
  • শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ০৯:৪৪

প্রায় দু'হাজার কিলোমিটার সমুদ্রপথ অতিক্রম করে পশ্চিম এশিয়া থেকে কেরলের কোচি বন্দরে তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি অলিম্পিক লাইফ’ পৌঁছে গিয়েছে। জাহাজটির খোলে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের তাজা ওয়ারহেড আটকে ছিল। ভারতীয় নৌসেনার বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞরা কয়েক ঘণ্টার অভিযানে সেটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে। পরে তা নিষ্ক্রিয় করেন।

মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরা বন্দর থেকে অশোধিত তেল নিয়ে কোচির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। গত ২৬ মে ওমান উপকূলের কাছে, রাজধানী মাসকাট থেকে প্রায় ৬০ নটিক্যাল মাইল দূরে, জাহাজটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ে। হামলার সময় একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড জাহাজের খোল ভেদ করে ভিতরে ঢুকে যায়। সেই পরিস্থিতিতেই ওমান উপসাগর থেকে ঝুঁকির যাত্রা শুরু করে তেলবাহী এমটি অলিম্পিক লাইফ।

যদি মধ্যসমুদ্রে বিস্ফোরণ হত তাহলে জাহাজ, তেলভর্তি ট্যাঙ্কার এবং নাবিকেরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারত। তবে সমস্ত আশঙ্কাকে পিছনে ফেলে কোনও দুর্ঘটনা ছাড়াই কোচি বন্দরে পৌঁছোতে সক্ষম হয় ‘এমটি অলিম্পিক লাইফ’। এরপরই উদ্ধার অভিযানে নামে ভারতীয় নৌসেনা।

শনিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, গত ১১ জুন ভারতীয় নৌসেনার এক্সপ্লোসিভ অর্ডন্যান্স ডিসপোজাল দল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সুচারুভাবে পরিকল্পিত একটি অভিযান চালিয়ে ওয়ারহেডটি উদ্ধার করেছে। পরে তা নিষ্ক্রিয় করেছে। বিস্ফোরকটি জাহাজের হালের কাছে, অশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কের সংলগ্ন অংশে আটকে ছিল বলে মন্ত্রক জানিয়েছে। সরকারি সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, ওই জাহাজে কোনও ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন না।

উল্লেখ্য, গত ৯ জুনের পর থেকে পশ্চিম এশিয়ায় ভারতীয় নাবিকদের পরিচালিত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এ সব ঘটনায় তিন জন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।


Share