Khalistani Terrorist

বদল হয়েছে ট্রাইব্যুনালের অবস্থান, ৪০ জন খালিস্তানি জঙ্গির আশ্রয় নেওয়ার আবেদন খারিজ করে দিল নিউ জিল‍্যান্ড

জানা গিয়েছে, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল ৪০টি মামলার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। ২৫ সালে ১৫টি এবং ২০২৬ সালে অগস্ট মাস পর্যন্ত ২৫টি মামলায় অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। তার মধ্যে একটিতেও আবেদনকারীকে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। সবকটি আবেদনই খারিজ করা হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:৩৩

নিউ জিল্যান্ডের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড প্রোটেকশন ট্রাইব্যুনাল খালিস্তানি জঙ্গিদের দেশে আশ্রয় নেওয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। খালিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা মোট ৪০ জন নিউ জিল্যান্ডে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছিল। তাদের সবার আবেদন ট্রাইব্যুনাল খারিজ করে দিয়েছে।

জানা গিয়েছে, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল ৪০টি মামলার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। ২৫ সালে ১৫টি এবং ২০২৬ সালে অগস্ট মাস পর্যন্ত ২৫টি মামলায় অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। তার মধ্যে একটিতেও আবেদনকারীকে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। সবকটি আবেদনই খারিজ করা হয়েছে।

তবে এই পরিসংখ্যান ২০২৪ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে আলাদা। ওই বছরে দু’টি মামলায় খালিস্তানি জঙ্গিদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। সেই দুই ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল মনে করেছিল, তাদের খালিস্তানের পক্ষে অবস্থান রয়েছে। তাই ভারতে ফেরত পাঠানো হলে আবেদনকারীদের প্রকাশ্য নিপীড়নের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে সমাজমাধ‍্যমে খালিস্তানপন্থী কার্যকলাপ, বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং একটি ক্ষেত্রে খালিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কিত ট্যাটুর মতো বিষয়ও ছিল।

এই মামলাগুলির ক্ষেত্রে ওই নির্দেশকে নজির বলে দাবি করা হয়। তার মাধ‍্যমেই একাধিক রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদন করা হয়। জানা গিয়েছে, অন্তত ন’টি মামলায় আইনজীবীরা ২০২৪ সালের একটি বা দু’টি সিদ্ধান্তের উল্লেখ করেছিলেন। তবে তা সফল হয়নি।

ট্রাইব্যুনালের দাবি, আবেদনকারীদের রাজনৈতিক কার্যকলাপ তুলনামূলক ভাবে কম ছিল। একইসঙ্গে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের খালিস্তানের সমর্থনে জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ে সম্পর্কে অবগত ছিল। তাই ভারতের দাবির বিপক্ষে এই ৪০টি মামলায় পর্যাপ্ত প্রমাণ আবেদনকারীরা দিতে পারেনি।

একটি মামলায় আবেদনকারী নিউ জিল্যান্ডের অকল্যান্ডে আয়োজিত খালিস্তানের পক্ষে গণভোটে ভোট দিয়েছিলেন।এ ছাড়াও, ওয়েলিংটনে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিল সে। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ ছিল, এই কর্মকাণ্ডগুলি ছিল অনেক ‘নিম্নস্তরের’। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নজরে ওই ব্যক্তি এসেছিলেন এমন কোনও প্রমাণও পাওয়া যায়নি বলে ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে।

শুধুমাত্র খালিস্তানের সমর্থক হওয়া বা খালিস্তানপন্থী কোনও কর্মসূচিতে যোগ দিলেই যে নিউ জিল্যান্ডে রাজনৈতিক শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া যাবে এমনটা নয়। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে এটাও দেখাতে হবে যে ওই ব্যক্তিকে যদি ভারতে ফেরত পাঠানো হয়, তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য এবং ব্যক্তি কেন্দ্রিক নিপীড়নের ঝুঁকি রয়েছে। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলিতে তা স্পষ্ট হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

তবে নিউজিল্যান্ডে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনের নির্দিষ্ট কারণ অনুযায়ী পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না। ইমিগ্রেশন নিউ জিল্যান্ডের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “কিছু তথ্য মামলার নথিতে থাকতে পারে। কিন্তু সেগুলি সহজে সংগ্রহযোগ্য কোনও ফরম্যাটে সংরক্ষিত নেই। নির্দিষ্ট তথ্য পেতে পর্যালোচনার প্রয়োজন হয়।”

২০২৪ সালে দু’টি মামলার পর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ধারাবাহিক সিদ্ধান্তে তার সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্রই উঠে এল। ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক অবস্থান অনুযায়ী, রাজনৈতিক মতাদর্শ বা কোনও আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভাবে নিপীড়নের আশঙ্কার প্রমাণ থাকাটাও শরণার্থী দাবির ক্ষেত্রে জরুরি। তবে এই বিষয়টিকে ভারত সরকারের সঙ্গে নিউ জিল্যান্ডের কূটনৈতিক সম্পর্কের ফসল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।


Share