Narendra Modi

মোদীর বিমানের দু’পাশে এফ-১৬ ও সুখোই-৩০-এর নিরাপত্তা বলয়, জাকার্তায় রাজকীয় অভ্যর্থনায় নতুন উচ্চতায় ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক

ইন্দোনেশিয়া বায়ুসেনার একটি আমেরিকার প্রযুক্তির 'এফ-১৬' এবং একটি রুশ প্রযুক্তির 'সুখোই-৩০' যুদ্ধবিমান মাঝআকাশে প্রধানমন্ত্রীর বিমানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেটিকে নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে নির্ধারিত গন্তব্য পর্যন্ত এসকর্ট করে নিয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ইন্দোনেশিয়া
  • শেষ আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬ ১১:০৮

নীল আকাশে উড়ে চলেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিমান। তার দু’পাশে নিরাপত্তার বলয় গড়ে উড়ছে ইন্দোনেশিয়া বায়ুসেনার দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। জাকার্তায় পৌঁছোনোর আগেই ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এই অভিনব ও রাজকীয় অভ্যর্থনা জানানো হয়। ইন্দোনেশিয়া বায়ুসেনার একটি আমেরিকার প্রযুক্তির 'এফ-১৬' এবং একটি রুশ প্রযুক্তির 'সুখোই-৩০' যুদ্ধবিমান মাঝআকাশে প্রধানমন্ত্রীর বিমানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেটিকে নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে নির্ধারিত গন্তব্য পর্যন্ত এসকর্ট করে নিয়ে যায়।

কূটনৈতিক মহলের মতে, মাঝআকাশের এই বিরল দৃশ্য যেমন নজরকাড়া, তেমনই গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিমানকে যে দুটি যুদ্ধবিমান এসকর্ট করে স্বাগত জানায়, সেগুলির উৎস সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটি 'এফ-১৬' আমেরিকায় নির্মিত, এক ইঞ্জিনের অত্যন্ত দক্ষ ও বহুল ব্যবহৃত ফাইটার জেট। অন্যটি 'সুখোই-৩০' রাশিয়ার তৈরি শক্তিশালী, জোড়া ইঞ্জিন ও দুই আসনের যুদ্ধবিমান। একসময় শীতল যুদ্ধের আবহে আমেরিকা ও রাশিয়া ছিল পরস্পরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। সেই দুই দেশের প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধবিমানই আজ ইন্দোনেশিয়ার আকাশে পাশাপাশি উড়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাল—যা কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতীয় বায়ুসেনার বহরেও 'সুখোই-৩০'-এর একটি উন্নত সংস্করণ ব্যবহৃত হয়।

জাকার্তায় পৌঁছেই সমাজমাধ্যম 'এক্স' হ্যান্ডেলে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি লেখেন, "বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর এই বিশেষ অভ্যর্থনায় আমি আপ্লুত।" ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক প্রসঙ্গে মোদী উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের পর থেকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যার সুফল পেয়েছেন উভয় দেশের নাগরিকরা। তিনি জানান, এই সফরে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী, বিস্তৃত ও গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে থাকছে সাংস্কৃতিক কূটনীতিরও বিশেষ ছাপ। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি ও প্রেসিডেন্ট সুবিয়ান্তো একসঙ্গে যোগকার্তার ঐতিহাসিক প্রাম্বানান মন্দির চত্বর পরিদর্শন করবেন। এই সফরের মাধ্যমে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ইন্দোনেশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন তিনি। প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে ইন্দোনেশিয়া ভারতের তৈরি অত্যাধুনিক ‘ব্রহ্মোস’ সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল সিস্টেম কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করে। এর আগে ২০২২ সালে প্রায় ৩৭৫ মিলিয়ন আমেরিকার ডলারের চুক্তির মাধ্যমে ফিলিপাইন প্রথম বিদেশি দেশ হিসেবে ভারতের কাছ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনেছিল। ফলে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ভারত-ইন্দোনেশিয়া প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই কূটনৈতিক মহলের ধারণা।


Share