Narendra Modi

‘বন্দে মাতরম’-এর সুরে মোদীকে বরণ, রুটি-লবণে ঐতিহ্যবাহী অভ্যর্থনা, স্লোভাকিয়া সফরে ভারত-ইউরোপ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

দেশটির ঐতিহ্য অনুযায়ী ‘ব্রেড অ্যান্ড সল্ট’ বা রুটি ও লবণ দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয়। মোদীর অভ্যর্থনার জন্য বিমানবন্দরে বেজে ওঠে ‘বন্দে মাতরম’ গান।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ফ্রান্স
  • শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ১২:৫০

তিন দিনের সফরে ফ্রান্সে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার মাঝরাতে ব্লাটি সাভার প্রধানমন্ত্রী বিমান অবতরণ করে। ১৯৯৩ সালে স্লোভাকিয়া স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর, এই প্রথম কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী দেশটিতে পা রাখলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ইউরোপ সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল।

ব্রাতিস্লাভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোদীকে স্বাগত জানান স্লোভাকিয়ার বিদেশমন্ত্রী জুরাজ ব্লানার। সেখানে মোদীকে যেভাবে অভ্যর্থনা জানানো হল, তা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। দেশটির ঐতিহ্য অনুযায়ী ‘ব্রেড অ্যান্ড সল্ট’ বা রুটি ও লবণ দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয়। মোদীর অভ্যর্থনার জন্য বিমানবন্দরে বেজে ওঠে ‘বন্দে মাতরম’ গান। স্লোভাক গায়ক-গায়িকারা বৈদিক মন্ত্রও পাঠ করেন।

বিমানবন্দরে নেমে ভারত ও স্লোভাকিয়ার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন তিনি। লেখেন, ‘এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করার এটাই সুযোগ আমাদের।’

প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের এই সফরকে কূটনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মোদির এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো ভারত ও স্লোভাকিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অটোমোবাইল শিল্প, রেল উৎপাদন এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রগুলোতে দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। স্লোভাকিয়ার রাষ্ট্রপতি পিটার পেলেগ্রিনি এবং প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে মোদীর। এ ছাড়াও, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে স্লোভাকিয়ার শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন তিনি।

স্লোভাকিয়া সফর শেষ করেই প্রধানমন্ত্রী ফের ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখানে ১৬ ও ১৭ জুন আয়োজিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। বিশ্ব অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সেখানে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর ১৮ জুন প্যারিসে ইউরোপের অন্যতম বৃহত্তম প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ মঞ্চ ‘ভিভাটেক ২০২৬’-এ অংশ নেবেন মোদী। অর্থাৎ সব মিলিয়ে, মোদীর এই ইউরোপ সফর শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নই নয়, বরং ইউরোপের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিচ্ছে।


Share