Terroist Attack

জার্মানিতে সমকামীদের অনুষ্ঠান চলাকালীন চলন্ত ঢুকে পড়ল ভিড়ে, ইসলামিক জঙ্গি হামলায় এক জনের মৃত্যু, জখম ২৯ জন

জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ট জানান, “প্রাথমিক তদন্তে যা উঠে এসেছে, তাতে এটি একটি “ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী হামলা” বলেই মনে হচ্ছে।” তিনি এ-ও জানান, বালউত আগে থেকেই পুলিশের নজরদারিতে ছিল। অতীতেও একাধিক অপরাধের সঙ্গে সে জড়িত ছিল।

জার্মানিতে ইসলামিক জঙ্গি হামলা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বার্লিন
  • শেষ আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬ ১১:১৮

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ইসলামিক জঙ্গি হামলা। সেখানে সমকামীদের ‘বার্লিন প্রাইড’ মিছিলে একটি চলন্ত গাড়ি ঢুকে পড়ে। ঘটনায় এক জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৯ জন জখম হয়েছেন। পাল্টা পুলিশের এনকাউন্টার করে ইসলামিক জঙ্গিকে নিকেশ করেছে।

জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে বার্লিনের টিয়ারগর্টেন পার্কে সমকামীদের প্রাইড অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানে সামিল হতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন। সেই সময় একটি একটি ভ্যান দ্রুত গতিতে এসে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা জনতার ওপর উঠে যায়। জার্মান প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটানায় একজন নিহত হয়েছেন। অন্তত ২৯ জন জখম হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে জখমদের চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার পরে এলাকার ভিডিয়ো এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে এক সন্দেহভাজন যুবককে পুলিশ  চিহ্নিত করে। তার নাম আব্বুল বলাউত। ঘটনার পর থেকেই আব্দুল পলাতক ছিল। প্রায় ২৪ ঘন্টা ধরে আব্দুলের তল্লাশি চালানো হয়। রবিবার বার্লিনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় স্পানডাউ এলাকায় তাকে পুলিশ খুঁজে পায়। পুলিশের বক্তব্য, আব্দুলকে আত্মসমর্পণ করতে বললে সে শোনেনি। উল্টে ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশ সদস্যদের দিকে তেড়ে আসে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই আব্দুলের মৃত্যু হয়েছে।

জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ট জানান, “প্রাথমিক তদন্তে যা উঠে এসেছে, তাতে এটি একটি “ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী হামলা” বলেই মনে হচ্ছে।” তিনি এ-ও জানান, বালউত আগে থেকেই পুলিশের নজরদারিতে ছিল। অতীতেও একাধিক অপরাধের সঙ্গে সে জড়িত ছিল। জার্মানির সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বালউত অতীতে ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন আইএস যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। সেই কারণে রাষ্ট্রবিরোধী মামলায় এক বছর ১০ মাসের কারাদণ্ড হয়েছিল। এ ছাড়াও, প‍্যালেস্তানি উদ্বাস্তু আব্বুল হিসেবে জার্মানিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি জনগণকে বিভক্ত না হওয়ার এবং ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানান। বার্লিনের মেয়র কাই ভেগনার বলেন, “একটি শান্তিপূর্ণ ও বর্ণময় প্রাইড সমাবেশের ওপর এই নৃশংস হামলা আমাদের মুক্ত ও বহুত্ববাদী সমাজের ওপর আঘাত করেছে।” অন‍্য দিকে, এই ঘটনার পর জার্মানির কমিউনিজমের বিরোধী নেতারা দেশের অভিবাসন নীতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন।


Share