Middle East Conflict

জয়শঙ্করের কূটনীতিতে সাফল্য, হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় তেলবাহী জাহাজের সেফ প্যাসেজ দিল ইরান

সূত্রের খবর, মুম্বই বন্দরে পৌঁছেছে লিবেরিয়ার পতাকা লাগানো ‘শেনলং সুয়েজ়ম্যাক্স’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজ। জাহাজটি রাস টানুরা বন্দর থেকে গত ১ মার্চ ভারতের জন্য ক্রুড অয়েল বোঝাই করেছিল। দু’দিন পরে সেখান থেকে যাত্রা শুরু করে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে পৌঁছেছে জাহাজ
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুম্বই
  • শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ০১:২২

বড় কূটনৈতিক সাফল্য পেল ভারত। বুধবার এস জয়শঙ্কর-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন আব্বাস আরাঘচি। সেই আলোচনার পরেই ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য সেফ প্যাসেজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের জ্বালানি বহনকারী ট্যাঙ্কারগুলিকে ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পার হওয়ার সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে তেহরান। বুধবার সন্ধ্যাতেই একটি জাহাজ মুম্বই বন্দরে পৌঁছে গিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, ইরান হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা ভারতের বাকি জাহাজগুলিকেও নিরাপদে পারাপারের আশ্বাস দিয়েছে। তবে আমেরিকা, ইজরায়েল-সহ অন্যান্য দেশের জাহাজের জন্য এখনও সতর্কবার্তা বহাল রয়েছে।

সূত্রের খবর, মুম্বই বন্দরে পৌঁছেছে লিবেরিয়ার পতাকা লাগানো ‘শেনলং সুয়েজ়ম্যাক্স’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজ। জাহাজটি রাস টানুরা বন্দর থেকে গত ১ মার্চ ভারতের জন্য ক্রুড অয়েল বোঝাই করেছিল। দু’দিন পরে সেখান থেকে যাত্রা শুরু করে। জাহাজটির ক্যাপ্টেন ছিলেন এক ভারতীয়। ৮ মার্চ হরমুজ প্রণালীতে শেষবার সিগন্যাল পাওয়া যায়। ওই জাহাজে ছিল প্রায় এক লক্ষ ৩৫ হাজার ৩৩৫ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল। মুম্বই পোর্ট অথরিটির-র ডেপুটি কনজারভেটর প্রবীণ সিং জানিয়েছেন, জাহাজের তেল পূর্ব মুম্বইয়ের মাহুল এলাকার রিফাইনারিতে নিয়ে যাওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-এর উপর ইজরায়েল ও আমেরিকা-র যৌথ হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস। হরমুজ দিয়ে কোনও জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে তা ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। এর জেরে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়ে। একদিকে ইরানের হুঁশিয়ারি তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এই প্রণালী দিয়ে এক ফোঁটা তেলও রফতানি হতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে আমেরিকার পাল্টা হুমকি যদি ইরান হরমুজে মাইন পুঁতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে, তবে তার ফল ভালো হবে না।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে বড় প্রভাব পড়ে। ভারতেও তার প্রভাব পড়ে। কারণ, ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই আসে এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৬ লক্ষ ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে ভারতে আসত। রান্নার গ্যাস বা এলপিজি-র ক্ষেত্রেও ভারতের নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি প্রায় ১০০ শতাংশ এলপিজি আমদানি এই পথেই হয়। ফলে গত কয়েকদিনে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ইরানের দেওয়া এই সেফ প্যাসেজই আপাতত দেশের জ্বালানি উদ্বেগ অনেকটাই কমাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


Share