Middle East Conflict

ভারতের পথে এসে মাঝসমুদ্রে দিক বদল, ইরানের তেলভর্তি ট্যাঙ্কার পৌঁছোল চিনে

শিপ ট্র্যাকিং ডেটা এবং কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ‘পিং শুন’ নামের ট্যাঙ্কারটি ভারতের ভাদিনার বন্দরের দিকে এগোচ্ছিল। পরে আচমকাই সেটি রুট বদলে চিনের ডংইং বন্দরের দিকে রওনা দেয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ইরান
  • শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:২৬

দীর্ঘ সাত বছর পর ইরান থেকে ভারতের উদ্দেশে রওনা দেওয়া অপরিশোধিত তেলের একটি ট্যাঙ্কার হঠাৎ মাঝপথে দিক বদলে চিনের দিকে চলে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক শিথিলতার ফলে ইরান থেকে তুলনামূলক কম দামে অপরিশোধিত তেল আমদানির একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল ভারতের সামনে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই সম্ভাবনায় ধাক্কা খেল দিল্লি।

শিপ ট্র্যাকিং ডেটা এবং কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ‘পিং শুন’ নামের ট্যাঙ্কারটি ভারতের ভাদিনার বন্দরের দিকে এগোচ্ছিল। পরে আচমকাই সেটি রুট বদলে চিনের ডংইং বন্দরের দিকে রওনা দেয়। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্যাঙ্কারটিতে প্রায় ছ'লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল।

ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত বা ভারত-চিন কূটনৈতিক টানাপোড়েন নয়, বরং অর্থ লেনদেনের জটিলতাই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। ইরান আন্তর্জাতিক সুইফট ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে থাকায় তাদের সঙ্গে অর্থপ্রদান প্রক্রিয়া এখনও জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, আগে তেল কেনার পর ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে মূল্য পরিশোধের সুযোগ থাকলেও এখন বিক্রেতারা দ্রুত পেমেন্ট চাইছেন। এই আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণেই ট্যাঙ্কারটি ভারতের বদলে চিনের দিকে ঘুরে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০১৯ সালের মে মাসে আমেরিকার কড়া নিষেধাজ্ঞার জেরে ভারত ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়। সম্প্রতি আমেরিকা সাময়িক ছাড় দেওয়ায় আবারও ইরানি তেল ভারতে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পেমেন্ট সমস্যার কারণে সেই সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চয়তায়। আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত এই ছাড় কার্যকর তার আগে আর কোনও ইরানি ট্যাঙ্কার ভারতের দিকে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক জ্বালানি মহলের।


Share