Middle East Conflict

হরমুজে ফের ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা! শান্তির মউ কার্যত ভেস্তে, ট্রাম্পের হুঙ্কারের দু’দিনের মধ্যেই উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঙ্কার, “ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বরা সবাই ওখানেই রয়েছেন। একটা গুলিতেই তাদের সবাইকে খতম করা সম্ভব। কিন্তু আমরা তা করব না। কারণ, তাহলে আলোচনার জন্য আর কাউকে পাওয়া যাবে না।”

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬ ০৬:৩৭

ফের হরমুজ প্রণালীতে হামলা চালিয়েছে ইরানের রেভোলিউশন গার্ড। সোমবার অন্তত্য দু'টি জাহাজ লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা চালায় ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষার জন্য ইরান-আমেরিকার মধ্যে স্বাক্ষরিত মউ-এ বলা হয়েছিল, আগামী ৬০ দিন হরমুজে সমস্ত বাণিজ্যতরী নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। কিন্তু তারপরেও বারবার হরমুজ প্রণালীতে আক্রান্ত হচ্ছে জাহাজ।

পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একাধিক দফায় কূটনৈতিক বৈঠক হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। বরং আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাকযুদ্ধও অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে ইরানে প্রয়াত সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্য পর্ব চলছে। তার মধ্যেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঙ্কার, “ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বরা সবাই ওখানেই রয়েছেন। একটা গুলিতেই তাদের সবাইকে খতম করা সম্ভব। কিন্তু আমরা তা করব না। কারণ, তাহলে আলোচনার জন্য আর কাউকে পাওয়া যাবে না।”

এহেন মন্তব্যের মাত্র দু’দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে হামলা চালায় ইরান। আমেরিকার এক আধিকারিকের দাবি, ইরানের সেনাবাহিনী অন্তত দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। সেই সময় প্রণালী পেরোচ্ছিল দু’টি বাণিজ্যিক জাহাজ। যদিও এই হামলায় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। এর কয়েকদিন আগেই হরমুজ প্রণালীতে হামলার মুখে পড়েছিল একটি ভারতীয় তেলবাহী জাহাজ। জাহাজটিতে প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। তবে বিপদের মুখ থেকেও কোনওক্রমে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে সক্ষম হয় বাণিজ্যতরীটি।

প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংঘাত প্রশমনে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরিত হলেও, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশের মতপার্থক্য এখনও স্পষ্ট। সম্প্রতি তেহরান ঘোষণা করেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে বিশেষ ‘ফি’ আদায় করা হবে। শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের কড়া বিরোধিতা করে আসছে ওয়াশিংটন। এমনকি এই ইস্যুতে ইরানকে একাধিকবার সতর্কবার্তাও দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে সেই চাপ বা হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব না দিয়েই হরমুজে ফি আরোপের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে তেহরান।


Share