Middle East Conflict

‘ক্লাস্টার বোমা’ ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে ইরান, বিস্ফোরক ইজরায়েল, রাশিয়া-চিনের মদত রয়েছে বলেও দাবি তেল আভিভের

আইডিএফ-এর আন্তর্জাতিক মুখপাত্র তথা লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোসানি অভিযোগ তুলেছেন, ইরান ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে ক্লাস্টার বোমা জুড়ে দিয়ে ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে। ইচ্ছাকৃত ভাবেই এই বোমার ব্যবহার করা হচ্ছে।

ক্লাস্টার বোমা দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ ইরানের বিরুদ্ধে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ০২:১০

ইজরায়েল এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে ক্লাস্টার বোমা ব‍্যবহার করছে ইরান। বৃহস্পতিবার এমনই অভিযোগ করল ইজরায়েল। শুধু তাই নয়, রাশিয়া এবং চিন তাতে মদত দিচ্ছে বলেও দাবি করেছে। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, মধ‍্যপ্রাচ‍্যের যুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় ইরান ক্লাস্টার বোমা ব‍্যবহার করেছে। যদিও এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ইরান।

ইজরায়েলের দাবি, ইরানকে এই অস্ত্র দিয়ে মদত জোগাচ্ছে চিন এবং রাশিয়া। যদিও চিন বা রাশিয়ার তরফে এ নিয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফ-এর আন্তর্জাতিক মুখপাত্র তথা লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোসানি অভিযোগ তুলেছেন, ইরান ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে ক্লাস্টার বোমা জুড়ে দিয়ে ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে। ইচ্ছাকৃত ভাবেই এই বোমার ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকী, এই ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করে মূলত জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিকে নিশানা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এর জেরে সাধারণ নাগরিকদের মৃত্যু হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “সরাসরি নাগরিকদের উপর হামলা চালানো মানে যুদ্ধাপরাধ। ইরান সেটাই করছে। তবে আমরা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এই হামলার জবাব দেব।”

অনেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও এই অস্ত্রকে ভয়ানক বলে মনে করেন। কারণ, এর মাধ্যমে কোনও একটি জায়গায় নয়, একসঙ্গে একাধিক জায়গায় হামলা চালানো যায়। এই ক্লাস্টার বোমার মধ্যে আসলে একগুচ্ছ ছোট ছোট বোমা থাকে। সেগুলি মূলত ছোট কিন্তু বেশ শক্তিশালী। একটি বড় ক্ষেপণাস্ত্রের মোড়কের ভিতরে ওই ছোট বোমাগুলি ভরা থাকে। ক্ষেপণাস্ত্র কোথাও নিক্ষেপ হওয়ার আগে শূন্যেই খুলে যায় ক্লাস্টার বোমার অস্ত্র-মুখ। ভিতর থাকা ছোট ছোট বোমা বেরিয়ে আসে। এর পরেই বিস্তীর্ণ অংশে তা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ক্ষতির পরিমাণ এবং প্রাণহানির সংখ্যাও অনেক বেশি হয়। 

ক্লাস্টার বোমার আরও একটি বিশেষত্ব হল, এর মধ্যে থাকা ছোট বোমাগুলির কোনও কোনওটি মাটিতে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ফাটে না। কোনও কিছুর সংস্পর্শে আসা মাত্রই বিস্ফোরণ ঘটে। অর্থাৎ, জনবহুল এলাকা না হলে এবং কিছুর সংস্পর্শে না এলে দীর্ঘ দিন পর্যন্ত এই বোমা সক্রিয় থেকে যেতে পারে। নির্বিচারে ধ্বংস করতে সক্ষম ক্লাস্টার বোমা। এক বার ছোড়া হলে কোথায় গিয়ে পড়ছে, তাতে কার ক্ষতি হচ্ছে, তা আর নিয়ন্ত্রণ করার কোনও উপায় নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই প্রথম নয়, ক্লাস্টার বোমার ব্যবহার আগেও বিভিন্ন যুদ্ধে দেখা গিয়েছে। তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিতর্কও হয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই বোমা ব্যবহার করছিল ইউক্রেন। তাদের ক্লাস্টার বোমা সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছিল আমেরিকার বিরুদ্ধে। রাশিয়ার বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করতে এই বোমা ব্যবহার করেছিল ইউক্রেন। অন্য দিকে, ইউক্রেনও অভিযোগ করেছিল রাশিয়া তাদের বিরুদ্ধে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করছে।


Share