Indian Sailor Killed

পার্সিয়ান গালফে তেল ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ হামলা, আগুনে পুড়ে মৃত্যু ভারতীয় নাবিকের

ইরাকের বাসরা উপকূলের আল ফাও বন্দরের কাছেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর মুহূর্তের মধ্যে আগুনে গ্রাস করে ট্যাঙ্কার দু’টিকে। জ্বলন্ত জাহাজ থেকে এখনও পর্যন্ত ৩৮ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে।

আমেরিকা তেলের ট্র‍্যাঙ্কারে হামলা
নিজস্ব সংবাদদাতা, ইরান
  • শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ০২:৪৪

পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধের আবহে আবারও প্রাণ হারালেন এক ভারতীয় নাবিক। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থার খবর অনুযায়ী, পার্সিয়ান গালফে মার্কিন মালিকানাধীন দু’টি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে ইরান। ওই হামলাতেই এক ভারতীয় জাহাজকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ‘সেফসি বিষ্ণু’ নামের ট্যাঙ্কারে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

ইরাকের বাসরা উপকূলের আল ফাও বন্দরের কাছেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর মুহূর্তের মধ্যে আগুনে গ্রাস করে ট্যাঙ্কার দু’টিকে। জ্বলন্ত জাহাজ থেকে এখনও পর্যন্ত ৩৮ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধের ১৩তম দিনে এই ঘটনার জেরে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, হামলার সময় ইরান আন্ডারওয়াটার ড্রোন ব্যবহার করেছে। অন্য সূত্রের মতে, বিস্ফোরক বোঝাই ছোট নৌকা ট্যাঙ্কারগুলির দিকে ধাক্কা মেরে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। নৌকাগুলি জাহাজে আঘাত করতেই ভয়াবহ বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায় দুই অয়েল ট্যাঙ্কারে।

সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, প্রবল বিস্ফোরণের পর ট্যাঙ্কার দু’টিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। সেখান থেকে সমুদ্রেও তেল ছড়িয়ে পড়ে। ঘন কালো ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে যায়। ট্যাঙ্কার দু’টির একটি ‘জেফাইরোস’, অন্যটি ‘সেফসি বিষ্ণু’।

জাহাজ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ট্র‍্যাঙ্কার ট্র‍্যাকার.কম-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই দুই ট্যাঙ্কারে মিলিয়ে প্রায় চার লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। মেরিটাইম ট্র্যাকিং সাইট ফাইন্ডারের তথ্য বলছে, ‘সেফসি বিষ্ণু’ ২০০৭ সালে নির্মিত একটি ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী এই জাহাজটির দৈর্ঘ্য ২২৮.৬ মিটার এবং প্রস্থ ৩২.৫৭ মিটার। এটি আমেরিকার সেফেসিয়া ট্রান্সপোর্ট ইনকর্পোরেটেডের মালিকানাধীন। অন্যদিকে ‘জেফাইরোস’ পরিচালনা করে গ্রিসের একটি সংস্থা।

উল্লেখ্য, এর আগেও ১ ও ২ মার্চ ওমান উপকূলে দু’টি বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি এমকেডি ভিওম এবং এমভি স্কাইলাইট-এর উপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল ইরানের বিরুদ্ধে। সেই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। ‘স্কাইলাইট’-এ দু’জন এবং ‘এমকেডি ভিওম’-এ থাকা এক জাহাজকর্মী নিহত হন। এছাড়াও ওই হামলায় ২০ জনেরও বেশি আহত হন। গুরুতর জখম এক নাবিক এখনও লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।


Share