Houthi Red Sea Permit

লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে হুথিদের ‘সবুজ সঙ্কেত’! ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা এড়াতে বিদ্রোহীদের ইমেল করছেন ক্যাপ্টেনরা

হুথিদের ইমেল করে সাত দিনের ট্রানজ়িট পারমিট নিচ্ছেন জাহাজের ক্যাপ্টেনরা, হামলা এড়িয়ে নিরাপদ যাত্রার আশায়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ১১:৫৬

লোহিত সাগরে পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক জলপথে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে এবার হুথি বিদ্রোহীদের কাছেই অনুমতি চাইছে একাধিক পণ্যবাহী জাহাজ। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আতঙ্কে যাত্রা শুরুর আগে বিদ্রোহীদের নির্দিষ্ট ইমেল ঠিকানায় যোগাযোগ করছেন জাহাজের ক্যাপ্টেনরা। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না থাকলেও লোহিত সাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় কার্যত নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে হুথিরা।

ইমেল করলেই মিলছে সাত দিনের অনুমতি!

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিদের তৈরি ‘হিউম্যানিটেরিয়ান অপারেশনস কোঅর্ডিনেশন সেন্টার’ (HOCC)-এ ইমেল পাঠিয়ে নিজেদের পরিচয় ও জাহাজের গতিপথ সম্পর্কে জানাচ্ছেন ক্যাপ্টেনরা। তাঁদের মূল উদ্দেশ্য, জাহাজটি হুথিদের হামলার লক্ষ্যবস্তু কি না, তা আগেই নিশ্চিত হওয়া। সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইমেলের উত্তর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে সাত দিনের ট্রানজ়িট পারমিট।

একটি অজ্ঞাত জাহাজের ক্যাপ্টেন ইমেলে জানিয়েছেন, তাঁদের জাহাজের সঙ্গে ইজ়রায়েল, ব্রিটেন কিংবা আমেরিকার কোনও সম্পর্ক নেই। তাই নিরাপদে যাতায়াতের অনুমতি চেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, একটি চিনা জাহাজকে উত্তরে হুথিরা সাত দিনের অনুমতিপত্র দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ইমেল অ্যালার্ট পরিষেবা সাবস্ক্রাইব করার প্রস্তাবও দিয়েছে।

চিনা জাহাজের যাত্রায় বিশেষ সতর্কতা

‘ঝং চেং চাং লিং’ নামে একটি চিনা কন্টেনার জাহাজের ক্ষেত্রেও একই কৌশল দেখা গিয়েছে। পরিচালনাকারী সংস্থার নির্দেশে হুথিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন জাহাজের ক্যাপ্টেন। অনুমতি পাওয়ার পর ৮ সেপ্টেম্বর জাহাজটির গন্তব্য সংক্রান্ত তথ্যে ‘সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী জাহাজে উপস্থিত’ বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর বাব এল-মান্দেব প্রণালী পেরিয়ে ১১ সেপ্টেম্বর নিরাপদে ভারত মহাসাগরে পৌঁছয় জাহাজটি। যাত্রাপথে সক্রিয় ছিল স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং ব্যবস্থা (AIS)।

আফ্রিকা ঘুরলে বাড়ছে খরচ

বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ পণ্য লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু ইজ়রায়েল-হামাস সংঘাতের পর থেকে আমেরিকা, ব্রিটেন ও ইজ়রায়েল-ঘনিষ্ঠ জাহাজকে নিশানা করছে হুথিরা। বিকল্প পথে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে গেলে বাড়ছে যাত্রার সময় এবং কোটি কোটি টাকার জ্বালানি খরচ। ফলে আর্থিক ক্ষতি এড়াতে ঝুঁকি নিয়েই হুথিদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বিভিন্ন সংস্থা।

আইনি স্বীকৃতি নেই, তবু কার্যত নিয়ন্ত্রণ

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাগুলি কোনও সশস্ত্র বা জঙ্গি সংগঠনের কাছ থেকে এ ধরনের অনুমতি নেওয়ার বিরোধী। আমেরিকার চোখেও হুথিরা নিষিদ্ধ সংগঠন। প্রতিবেদনে আরও দাবি, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সানা বিমানবন্দরে ইরানি বিমানের অবতরণকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের সঙ্গে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যায়। এরপর সৌদির বিরুদ্ধে জলপথ অবরোধ ঘোষণা করে লোহিত সাগরের ইয়েমেন উপকূলে নিজেদের প্রভাব বাড়ায় হুথিরা। ফলে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না থাকলেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভয় দেখিয়ে লোহিত সাগরে কার্যত এক অঘোষিত ‘ডিজিটাল টোল বুথ’ চালাচ্ছে তারা।slug


Share