Middle East Conflict

‘হরমুজ এখন পুরোপুরি আমেরিকার দখলে’, দাবি ট্রাম্পের! লোহার দেওয়াল তুলে ইরানকে হুঁশিয়ারি, বাড়ছে সংঘাতের আশঙ্কা

এর আগে, দিনদুয়েক আগেই খবর ছড়িয়েছিল যে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে আনতে আমেরিকা সেখানে প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। বুধবারের ঘোষণায় সেই অভিযান সফল হয়েছে বলেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ১২:২১

হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে বলে দাবি করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার নিজের সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ঘিরে আমেরিকার নৌবাহিনী ‘লোহার দেওয়াল’ তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, ইরান কোনও ভাবেই সেই প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করতে পারবে না। পোস্টের শেষে ট্রাম্প লেখেন, ‘আল্লার গৌরব হোক’। এর আগে, দিনদুয়েক আগেই খবর ছড়িয়েছিল যে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে আনতে আমেরিকা সেখানে প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। বুধবারের ঘোষণায় সেই অভিযান সফল হয়েছে বলেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইরান-আমেরিকা সংঘাতের মধ্যেই ট্রাম্পের এই দাবি সামনে এল। পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের আবহে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে শান্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই জল্পনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ফের উত্তেজনা বাড়ল। সেন্টকম জানিয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সহায়তা এবং তেহরানের উপর অবরোধ আরও শক্তিশালী করতেই মধ্যপ্রাচ্যে ২০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হচ্ছে। ইরানের বন্দর থেকে বেরিয়ে আসা জাহাজগুলিকে আটকানোর লক্ষ্যেই হরমুজ প্রণালী ঘিরে আমেরিকার নৌবাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এই অভিযানে আমেরিকা সাফল্য পেয়েছে বলেই ট্রাম্প দাবি করেন। নিজস্ব সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালী এখন পুরোপুরি আমেরিকার দখলে। মনে হয় ওই এলাকা আমাদের হাতেই থাকবে। ইস্পাতের দেওয়াল গড়ে ফেলেছি। ইরান কিচ্ছু করতে পারবে না। ওদের নৌসেনা, বায়ুসেনা কিছুই নেই। পয়সা নেই, সেনাকে বেতন দিতে পারছে না। খালি ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে আর ওদের দেশে মূল্যবৃদ্ধি বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ওদের দাদাগিরি আর নেই, আল্লার গৌরব হোক।’ যদিও এই নিয়ে তেহরানের তরফ থেকে এখনও কিছু বলা হয়নি।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালী ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এই জলপথে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের উপর তেহরান চাপ তৈরি করেছে। এখনও ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখেছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আমেরিকা তাদের অবস্থান ও আচরণ সংশোধন না করা পর্যন্ত হরমুজ খোলা হবে না। এই পরিস্থিতিতেই ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালী এখন পুরোপুরি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে যদি সত্যিই হরমুজের নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার হাতে চলে যায়, তা হলে ইরানের জারি করা অবরোধ কতটা কার্যকর থাকবে? নাকি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে ঘিরে নতুন করে শুরু হবে আরও বড় সংঘাত?


Share