Hindu Youth Beaten

বাংলাদেশে হিন্দু যুবককে বেধড়ক মারধর, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা, গুরুতর জখম অবস্থায় ভর্তি হাসপাতালে

এনডিটিভি-তে প্রকাশিত সংখ্যালঘু সংগঠনের প্রতিক্রিয়া অনুসারে, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র কাজল দেবনাথ জানিয়েছেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁরা জানেন। তবে এটি শুধুমাত্র ছিনতাই বা মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে সংঘটিত অপরাধ, নাকি এর অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হোক।

বাংলাদেশে ফের আক্রান্ত হিন্দু যুবক।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলাদেশ
  • শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ০৪:৫৬

বাংলাদেশে ফের আক্রান্ত হিন্দু যুবক। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে তাঁকে অপহরণ করা হয়। নিরিবিলি জায়গায় একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাঁর কাছ থেকে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। না দিলে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। আক্রান্ত যুবক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। জখম যুবকের নাম সুভাষ দেওরি (২৫)। জানা গিয়েছে, সোমবার রাত ৮টা নাগাদ রিকশায় করে সুভাষ যাচ্ছিলেন। স্বামীবাগে পৌঁছনোর পরে ওয়ারি এলাকা থেকে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁকে একটি ফাঁকা বাড়িতে আটকে রাখা হয়। মঙ্গলবার ভোরে তিনি কোনওভাবে অপহরণকারীদের হাত থেকে পালিয়ে বেরিয়ে আসেন।

সুভাষের বোন জয়া দেওরি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত ১টা নাগাদ তাঁর ভাইয়ের মোবাইল ফোন থেকেই একটি কল আসে। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা এক ব্যক্তি ৩০ হাজার বাংলাদেশি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে অপহরণকারীদের দেওয়া একটি নম্বরে ২৬ হাজার বাংলাদেশি টাকা পাঠানোর পর সুভাষকে পুরনো ঢাকার একটি রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের আরও দাবি, মারধরের জেরে সুভাষের পা ও কোমরে গুরুতর চোট লেগেছে।

জানা গিয়েছে, এক বন্ধুর সহায়তায় তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। ওয়ারি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফিজুর রহমান জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সুভাষ দেওরি পুরনো ঢাকার সেন্ট্রাল ল'কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। পাশাপাশি তিনি প্রয়োজনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে সহকারী পুরোহিত হিসেবে পুজো করতেন। প্রাথমিক ভাবে, তিনি ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই টার্গেট হয়েছেন বলেই মনে করছে বাংলাদেশের সংখ‍্যালঘু সংগঠন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দির কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সুভাষ দেওরি মন্দিরের স্থায়ী পুরোহিত নন। স্থায়ী পুরোহিতের অনুপস্থিতিতে তিনি মাঝে মধ্যে ধর্মীয় আচার পালন করতেন। এই ঘটনার সঙ্গে মন্দিরের কোনও যোগ নেই।

এনডিটিভি-তে প্রকাশিত সংখ্যালঘু সংগঠনের প্রতিক্রিয়া অনুসারে, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র কাজল দেবনাথ জানিয়েছেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁরা জানেন। তবে এটি শুধুমাত্র ছিনতাই বা মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে সংঘটিত অপরাধ, নাকি এর অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সুভাষ দেওরির বাড়ি বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের মাগুরা জেলায়। পড়াশোনার জন্য তিনি ঢাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছেন চিকিৎসকেরা। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তও চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।


Share