Nepal Flash Flood

সেকেন্ডের মধ্যে ধূলিসাৎ হয় গোটা স্কুল, প্রধান শিক্ষকের বুদ্ধিতে বেঁচে গেল ১৬৪৩ জন পড়ুয়া, ‘ত্রিশূলী হিরো’ বলছেন স্থানীয়েরা

রাজেন্দ্র বলেছেন, তিনি একজন শিক্ষককে বাঁচাতে পারেননি। ওই শিক্ষক জলখাবার তৈরি করতে বাড়িতে গিয়েছিল। সেই বাড়িটিও ভেসে গিয়েছে। এ ছাড়াও, পড়ুয়ারা বেরিয়ে যাওয়ার পরে ভবনের দরজা বন্ধ করতে এর সাফাইকর্মী গিয়েছিলেন। তাঁরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রধান শিক্ষকের নাম রাজেন্দ্র দাওয়াদি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬ ০৬:১৯

সিদ্ধান্ত নিতে আর কয়েক সেকেন্ড দেরি করলেই গোটা স্কুলের শিশুদের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো না। ত্রিশূলী উপত্যকার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বুদ্ধিতে বেঁচে যায় সহস্রাধিক শিশুর প্রাণ। উপস্থিত বুদ্ধির জোরে তিনি স্কুলের ১৬৪৩ জন শিশুকে বাইরে বের করে নিয়ে আসতে পেরেছেন। ত্রিভূবণ ত্রিশূলী সেকেন্ডারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নাম রাজেন্দ্র দাওয়াদি।

তিনি জানিয়েছেন, সকাল ৯টা ২০ মিনিট নাগাদ প্রথম সতর্কবার্তা পান। পরবর্তীতে কী হতে চলেছে তা-ও তিনি জানেন না। তাঁর বন্ধু রাজেন্দ্রকে জানান, ত্রিশূলী নদী গোটা গ্রাম ভাসিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছে। পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। তবে ত্রিশূলী উপত‍্যাকার ওই স্কুলটি অনেকটাই উঁচু। প্রায় ৬০ মিটার উঁচু। নদীর জল এলে স্কুলভবনটি বেঁচে যাবে বলে মনে করেছিলেন। সেই সময় রাজন্দ্রর স্কুলে ১৬৪৩ জন পড়ুয়া ছিল। তাঁদের সবার দায়িত্ব প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্রর কাঁধেই ছিল।

তাঁর বক্তব্য, সেই সময় এক অভিভাবক ছুটে ছুটে স্কুলে আসেন। তিনি রাজেন্দ্রকে জানান, নদীর জলস্তর ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। যে কোনও মুহূর্তে তা স্কুলে চলে আসবে। এর পরে আর কোনও ঝুঁকি নেননি। সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন স্কুল খালি করতে হবে বলে। ঘন্টা বাজিয়ে সমস্ত স্কুলের শিক্ষকদের ডাকেন। ক্লাসরুম খালি করার নির্দেশ দেন। স্কুল খালি করতে হবে বলেও নির্দেশ জারি করে দেন। স্কুলের সমস্ত বাসচালককে ডেকে নেন। তারপরে পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। তাঁর কথায়, একটি বাসের চালক আসেননি। যে দিক থেকে হড়পা বান আসছে সেই দিকে ভুল করে চলে যান। সেতুর ওপর দিয়ে বাসটিকে আসতেও দেখেন। ওই বাসের চালককে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

হৈচৈ হচ্ছে দেখে শিশুরা বুঝতে পেরেছিল যে ভয়ানক কিছু একটা হতে চলেছে। এরই মধ্যে এক ছাত্রীর প‍্যানিক অ‍্যাটাক হয়। তাঁকে মোটরবাইকে করে অন‍্যত্র পাঠিয়ে দেন রাজেন্দ্র। আরও উঁচুতে একটি গাছের নীচে আশ্রয় নেন। তাঁদের চোখের সামনেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে স্কুলটি ধূলিসাৎ হয়ে যায়। গোটা স্কুলভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে ছুটতে থাকে কাদামাটির স্রোত।

রাজেন্দ্র বলেছেন, তিনি একজন শিক্ষককে বাঁচাতে পারেননি। ওই শিক্ষক জলখাবার তৈরি করতে বাড়িতে গিয়েছিল। সেই বাড়িটিও ভেসে গিয়েছে। এ ছাড়াও, পড়ুয়ারা বেরিয়ে যাওয়ার পরে ভবনের দরজা বন্ধ করতে সাফাইকর্মী গিয়েছিলেন। তাঁরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এতগুলি প্রাণ বাঁচানোর পরেও তিনি হতাশ। চোখের সামনে যে ভাবে ধ্বংসলীলা চলেছিল, তা হতাশাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, “আর কীই বা করতে পারতাম আমি!” তবে এতগুলি শিশুর প্রাণ বাঁচানোয় স্থানীয় মানুষেরা তাঁকে ‘ত্রিশূলীর হিরো’ বলতে শুরু করেছেন।


Share