Pakistan Crisis

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিদ্রোহীরা ‘শত্রু’! দাবি আসিফের, সেনাবাহিনীর অত‍্যাচার অব‍্যাহত, দু’দিনে ৪০ জনের মৃত্যু

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ ওই প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহণ করেছিল। আচমকাই ওই মিছিলের থাকা আন্দোলনকারীদের ওপরে নির্বিচারে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গুলি চালায়।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর গুলিতে ৪০ জনের মৃত্যু।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কাশ্মীর
  • শেষ আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৬ ১১:২২

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা পাকিস্তানের ‘শত্রু’! বুধবার এমনটাই দাবি করল পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। সেখানে চলমান বিদ্রোহ নিয়ে আসিফ এমনটাই দাবি করেছে। সেখানকার তথাকথিত আইনসভার নির্বাচন নিয়ে বিদ্রোহ অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনীর গুলিতে গত দু’দিন ধরে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একাধিক বিক্ষোভকারী জখম হয়েছেন।

নিজেদের অধিকারের দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নাগরিকেরা। মূলত চরম অর্থনৈতিক সঙ্কট, সাধারণ নাগরিকদের প্রতি সরকারের বঞ্চনা, নাগরিকদের ওপর প্রশাসনের একের পর এক বিধিনিষেধ চাপানো, সেনাবাহিনীর অত‍্যাচারে বিরুদ্ধে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল। পরবর্তীতে এই ক্ষোভ আন্দোলনে রূপান্তর হয়েছে। প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীর উত্তপ্ত রয়েছে।

এই অশান্তির মাঝে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে তথাকথিত আইনসভার নির্বাচন শুরু হয়েছে। তিন দফায় নির্বাচন হবে। শেষ দফার ভোট হবে আগামী ১০ অগাস্ট। গত সোমবার  প্রথম দফার নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। ভোটে দেদার ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ উঠেছে। এমনই প্রহসনে পরিণত হওয়া নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। ছাপ্পা ভোট এবং ১২টি সংরক্ষিত আইনসভার আসন বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার রাওয়ালকোট থেকে মুজাফফরাবাদের দিকে মিছিল করে। পাকিস্তানের বিদ্রোহী সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) এই মিছিলের আয়োজন করেছিল।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ ওই প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহণ করেছিল। আচমকাই ওই মিছিলের থাকা আন্দোলনকারীদের ওপরে নির্বিচারে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গুলি চালায়। এই ঘটনায় অন্তত ৪০ জন আন্দোলনকারীকে সেনাবাহিনী হত্যা করেছে। এদের মধ্যে ৩৪ জন বিক্ষোভকারী এবং ছ’জন পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য আছে। পাশাপাশি ২০ জনেরও বেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছে জখম হয়েছেন। 

এই ঘটনাকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। আসিফের বক্তব্য, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আন্দোলনকারীরা ইসলামাবাদের ‘শত্রু’। আসিফের এ-ও বক্তব্য, ইসলামাবাদ ভারতে যেমন শত্রু হিসেবে দেখে তেমন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নিরিহ বাসিন্দারাও শক্র। সমাজমাধ‍্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে খোয়াজা আসিফ বলছে, “আমি আজাদ কাশ্মীরের বিক্ষোভকারীদের ভারতের সমকক্ষ করি। ভারতের মতোই তাঁদেরকে শত্রু হিসেবে গণ্য করি।"

ভারত জানিয়েছে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের এই বিক্ষোভ ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত শোষণ এবং প্রশাসনিক দমন-পীড়নের ফল। পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের ওপরে পুলিশের কথিত বর্বরতারও সমালোচনা করেছে দিল্লি। গত রবিবার কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে লাদাখে সেনাবাহিনীর অনুষ্ঠানে গিয়ে ইসলামাবাদকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য একেবারেই স্পষ্ট। পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও আলোচনা হবে না। যদি কোনও আলোচনা হয়, তবে তা কেবল পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই হবে। ওটা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তান তা অবৈধ ভাবে দখল করে রেখেছে।”

ওই দিন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ আরও বলেছিলেন, “বর্তমানে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে তাদের সরকারি নীতির অংশ করে তুলেছে। সেখানে সেনাবাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যকার পার্থক্য সম্পূর্ণ ভাবে মুছে গিয়েছে। সেনাবাহিনী কেবল সন্ত্রাসী সংগঠনগুলিকে রক্ষাই করে না, বরং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজও করে। তাই অপারেশন সিঁদুরের সময় আমরা স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম যে, ভারত আর সন্ত্রাসী এবং তাদের সমর্থনকারী সরকারগুলিকে আলাদা চোখে দেখবে না।” তাঁর কথায়, “পাকিস্তানের প্রতিটা শয়তানির জবাব এমন দেওয়া হবে যে তারা কল্পনাও করতে পারবে না।”


Share